বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬
দেশম-এমবাপ্পের রেকর্ডের ম্যাচে বিধ্বস্ত সুইডেন
্সএকতরফা ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শেষ ১৬-তে উঠেছে টপ ফেভারিট ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের জাদুকরী ম্যাচে বিশ্বকাপে দুটি রেকর্ড করেছেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম ও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।

একই ম্যাচে দুটি বিশ্বকাপ রেকর্ড করেছেন ফ্রান্স দলের কোচ দিদিয়ের দেশম ও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে
সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের রাউন্ড অব থার্টি টুর ম্যাচ, এই এক ম্যাচেই বেশ কিছু রেকর্ড হয়েছে। * বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১৮টি ম্যাচ জেতা কোচ হয়েছেন দিদিয়ের দেশম * বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে সর্বাধিক ৯টি গোলের মালিক এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে, পেছনে ফেলেছেন দুই ব্রাজিলিয়ান গ্রেট রোনালদো নাজারিও ও লেওনিদাসকে। * মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন এমবাপ্পে, তাঁর গোল ১৮ ম্যাচে ১৮টি, সাথে ৫টি অ্যাসিস্ট!

গোল উদযাপনে দেশম ও এমবাপ্পে
দিদিয়ের দেশম আর এমবাপ্পের রেকর্ডের রাতে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বল পায়ে বিদ্যুতের মতন চমকেছেন মাইকেল ওলিসে। বল পায়ে ওলিসের সৃজনশীলতায় পুরো ম্যাচে সুইডিশ রক্ষণভাগকে দিশেহারা দেখিয়েছে।
সুইডেনের বিপক্ষে হট ফেভারিট ফ্রান্সের ৩-০ গোলের জয়ে তিনটি গোলেই অবদান রেখেছেন ওলিসে। প্রমত্তা নদীর ঢেউয়ের মতো সুইডেনের রক্ষণে আক্রমণের ঢেউ বয়ে গেছে, প্রতিটিতেই ছিলো ওলিসের কারুকাজ! চলতি বিশ্বকাপে ৫টি অ্যাসিস্ট হয়ে গেলো ২৪ বছর বয়সী বায়ার্ন মিউনিখ উইঙ্গারের, ব্রাজিলের ব্রুনো গিমারায়েসকে পেছনে ফেললেন।
এই বিশ্বকাপে সব দলের আক্রমণভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর জুটি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে এমবাপ্পে-ওলিসে জুটি। এই দুজনের বোঝাপড়া এত দুর্দান্ত যে, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ হিমশিম খাচ্ছে। যার ফলাফল এমবাপ্পের ৬ গোল, ওলিসের ৫ অ্যাসিস্ট।
এমবাপ্পে-ওলিসের সাথে দলের বাকিরাও অসাধারণ খেলছেন। যার কারণে ফ্রান্স অপ্রতিরোধ্য দল হয়ে উঠেছে। কতটা অপ্রতিরোধ্য, তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে সুইডেন দল।

ওলিসে-এমবাপ্পে জুটি অপ্রতিরোধ্য
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের বন্যা বয়ে যায়। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও সুইডিশ রক্ষণ আর গোলবারের কারণে প্রথম গোলের জন্য ফান্সকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়! অসামান্য ব্যক্তিগত শৈলিতে সুইডিশ গোলকিপারকে পরাস্ত করেন ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পে।
প্রথমার্ধের আক্রমণের ধার দ্বিতীয়ার্ধে আরও বাড়ে। ফলাফল আসে হাতেনাতে। ৫৩ মিনিটে ওলিসের ডিফেন্স এলোমেলো করা পাসে চোখ জুড়ানো গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।
এই ম্যাচে অন্তত একটা গোল প্রাপ্য ছিলো ওলিসের। কিন্তু তা হয়নি। তাতে অবশ্য আফসোস থাকার কথা নয় লেস ব্লুস রাইট উইঙ্গারের। দলের তিন নম্বর আর এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলটাও যে তিনিই বানিয়ে দিয়েছেন!
এই ম্যাচেও দুই গোল করায় গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে লিওনেল মেসির সাথেই অবস্থান করছেন এমবাপ্পে। দুজনেরই এখন গোল ৬টি। তবে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে এমবাপ্পে, দুটি অ্যাসিস্টও আছে ২৭ বছর বয়সি ফরোয়ার্ডের।
সুইডিশদের ভাগ্য ভালো এই ম্যচে মাত্র তিনটি গোল হজম করেছে। গোলের জন্য ম্যাচে ২১টি শট নিয়েছে ফ্রান্স, এর ১২টিই অনটার্গেট! আরও বড় লজ্জায় ডুবতে হয়নি বলে পুরো সুইডেন দল গোলরক্ষক জেটারস্ট্রমকে বিশেষ ধন্যবাদ দিতেই পারে! তিনি ম্যাচে ৯টি সেইভ করেছেন!
শেষ ১৬-তে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। ফ্রান্স দলের ফুটবলীয় যে শক্তিমত্তা, স্পিরিট আর একতা, তাতে ফিলাডেলফিয়াতে লাতিন আমেরিকার দলটির জন্য কঠিন এক রাতই অপেক্ষা করছে।

রুহুল মাহফুজ জয়
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।