বিশ্বকাপ ২০২৬: সবচেয়ে হতাশ করা পাঁচ দল
টানা ২৮ দিনের রোমাঞ্চ শেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ পৌঁছেছে প্রথম বিরতিতে। এই সময়ের মধ্যে দর্শকরা সাক্ষী হয়েছেন সব অসাধারণ গোল, ঐতিহাসিক অঘটন, আবেগঘন মুহূর্ত এবং নতুন তারকার উত্থানের। তবে সব দল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বরং কয়েকটি পরাশক্তি ও সম্ভাবনাময় দল নিজেদের সামর্থ্যের ধারেকাছেও যেতে পারেনি।

শেষ ১৬-তে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের
টানা ২৮ দিনের রোমাঞ্চ শেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ পৌঁছেছে প্রথম বিরতিতে। এই সময়ের মধ্যে দর্শকরা সাক্ষী হয়েছেন সব অসাধারণ গোল, ঐতিহাসিক অঘটন, আবেগঘন মুহূর্ত এবং নতুন তারকার উত্থানের। তবে সব দল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বরং কয়েকটি পরাশক্তি ও সম্ভাবনাময় দল নিজেদের সামর্থ্যের ধারেকাছেও যেতে পারেনি।
তাদের নিয়েই, বিশ্বকাপে সবচেয়ে হতাশাজনক পাঁচ দলের তালিকাটা এরকম দাঁড়ায়—

১. উরুগুয়ে
এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে উরুগুয়ে। কাগজে-কলমে অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়েও পুরো টুর্নামেন্টে ছন্দহীন ছিল মার্সেলো বেলসার দল। মাঠে সৃজনশীলতা, সমন্বয় এবং আক্রমণাত্মক ধার—কোনোটিই দেখা যায়নি। টুর্নামেন্টের আগেই কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে দূরত্বের গুঞ্জন ছিল, যা বিশ্বকাপ চলাকালেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তুলনামূলক সহজ একটি গ্রুপে পড়েও তিন ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট সংগ্রহ করে একটিও জয় ছাড়াই বিদায় নেয় উরুগুয়ে। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে নিয়মিত আলো ছড়ানো অনেক তারকাই গ্রুপ পর্বে নিজেদের অন্যতম বাজে পারফরম্যান্স উপহার দেন। মাঝমাঠে সৃজনশীলতার অভাব, নিষ্প্রভ আক্রমণ এবং অস্থির রক্ষণ—সব মিলিয়ে সম্ভাবনাময় একটি দল হতাশার প্রতীক হয়ে ওঠে।

২. ব্রাজিল
কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু বাস্তবে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় ইতিহাসের অন্যতম হতাশাজনক অধ্যায় হিসেবে। ২৩টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ইতিহাসে এটি তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থান।
তবে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে শুধু বিদায় নয়, দলের ফুটবল দর্শনের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি। পুরো টুর্নামেন্টে কোথাও দেখা যায়নি ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ও নান্দনিক ব্রাজিলকে।
সবচেয়ে হতাশাজনক ম্যাচ ছিল নরওয়ের বিপক্ষে নকআউট পর্বে। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় নিজেদের অর্ধেই রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত ছিল ব্রাজিল। নরওয়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক পাস সম্পন্ন করে তারা, আর আক্রমণে ভরসা ছিল কেবল বিচ্ছিন্ন পাল্টা আক্রমণ। এই পরাজয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ শেষ করে ব্রাজিল, সামনে রেখে যায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা।

৩. তুরস্ক
বিশ্বকাপ শুরুর আগে অনেকেই তুরস্ককে সম্ভাব্য 'ডার্ক হর্স' হিসেবে দেখেছিলেন। কাতারে মরক্কোর মতো চমক দেখানোর সামর্থ্য আছে বলেও ধারণা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় খুব দ্রুত।
গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই বিদায় নিশ্চিত করে দেশে ফিরতে হয় তুরস্ককে। পরিসংখ্যান বলছে, তারা টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি শট নেওয়া দলগুলোর একটি ছিল। কিন্তু সেই আধিপত্য গোলে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়। একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্ট করায় প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণের শিকার হয়ে হতাশাজনক বিদায় নিতে হয় তাদের।

৪. জার্মানি
কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বিশাল জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল জার্মানি। সেই ম্যাচ দেখে মনে হয়েছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
কিন্তু বড় জয়ের আড়ালে লুকিয়ে ছিল রক্ষণভাগের দুর্বলতা। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতলেও শেষ গ্রুপ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ ব্যবধানে হারে তারা। পরে শেষ ৩২-এ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় জার্মানি।

৫. দক্ষিণ কোরিয়া
তালিকার শেষ দল দক্ষিণ কোরিয়া। ইউরোপভিত্তিক অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে গড়া এই দলটিকে অনেকেই টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য চমক হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।
চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে দারুণ প্রত্যাবর্তনের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও এরপর সবকিছু ভেঙে পড়ে। টানা মেক্সিকো ও তুলনামূলক দুর্বল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় এশিয়ার প্রতিনিধিরা। প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার এই ব্যর্থতাও বিশ্বকাপের অন্যতম বড় হতাশা হয়ে থাকবে।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।
সম্পর্কিত আরও খবর
ফুটবলপ্রিমিয়ার লিগের আগস্ট সেরা ‘বেনজেমার প্রতিচ্ছায়া’
ফুটবলমেসির সম্মানে আর্জেন্টিনার সব ম্যাচ থামবে ১০ মিনিটে
ফুটবলফুটবলে হাই প্রেস কী, কীভাবে কাজ করে, ভাঙার উপায়
ফুটবলমেসির অবসরে আবেগঘন বিদায় সতীর্থদের
ফুটবলঅবসরের ঘোষণা দিলেন মেসি
ফুটবল
মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।