বিশ্বকাপ ফুটবল সেমিফাইনাল প্রিভিউ
ঐতিহাসিক দ্বৈরথের নতুন অধ্যায়ে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা
১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধের রাজনৈতিক ক্ষত পরে ছড়িয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের খেলার মাঠেও।

বুধবার রাতে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে। বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে এই দুই দল। মাঠের বাইরের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মাঠের ভেতরের ক্লাসিক বৈরিতা মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে এরই মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে দিয়েছে। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ফুটবল দ্বৈরথ কেবল একটি ম্যাচের চেয়েও বেশি কিছু। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধের রাজনৈতিক ক্ষত পরে ছড়িয়ে পড়েছিল খেলার মাঠেও।

মেক্সিকোয় ১৯৮৬ বিশ্বকাপে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং এরপরের ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ওপর ভর করে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
৯৮’র ফ্রান্স বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে দিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মেরে লাল কার্ড পান তৎকালীন ইংলিশ তরুণ ডেভিড বেকহ্যাম। টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। সাউথ কোরিয়া-জাপানে ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে বেকহ্যাম নিজের ‘রেডেম্পশন’ বা শাপমোচন করেন এবং ইংল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। বিশ্বকাপের মঞ্চে সেটিই ছিল দুই দলের শেষ দেখা।

সম্প্রতি মায়ামিতে আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোর ম্যাচের সময় গ্যালারিতে বেকহ্যাম ও সিমিওনের বন্ধুভাবাপন্ন ছবি আধুনিক ফুটবলে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দিলেও, মাঠের লড়াইয়ে চুল পরিমাণ ছাড় দিতে রাজি নয় কোনো পক্ষই।
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে এসেছে ইংল্যান্ড। সবশেষ দুই ম্যাচে গোল করে অসাধারণ ফর্মে আছেন ইংলিশদের প্রধান তারকা জুড বেলিংহাম। অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং বেলিংহাম দুজনেই চলতি আসরে ৬টি করে গোল করেছেন, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একই আসরে কোনো দলের দুই খেলোয়াড়ের ৬ বা তার বেশি গোল করার প্রথম কীর্তি। সুস্থ থাকলে কেইন খেলবেন তাঁর ১২১তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ, যা কোনো ইংলিশ আউটফিল্ডারের জন্য সর্বোচ্চ।
এছাড়া বার্সেলোনা উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা অ্যাসিস্টকারি বুকায়ো সাকা থ্রি লায়ন্সদের আক্রমণের ধার বাড়াচ্ছেন। ২০১৮ সালের পর থেকে এটি ইংল্যান্ডের চতুর্থ কোনো বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল। ম্যানেজার থমাস টুখেল লক্ষ্য রাখছেন অন্য দেশের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছানো চতুর্থ কোচ হওয়ার দিকে।
কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা চলতি আসরেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো তারা সেমিফাইনালে খেলছে। এর আগে খেলা ৫টি সেমিফাইনালের প্রতিটিতেই জিতেছে তারা, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে শতভাগ সাফল্যের সেরা রেকর্ড। চলতি আসরে ইতিমধ্যে রেকর্ড ১৭টি গোল করেছে তারা, যার মধ্যে ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার আগে আছেন ৩৯ বছর বয়সি লিওনেল মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারানোর ম্যাচেও অবদান রাখেন তিনি। কোচ লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে কার্লোস বিলার্দোর পর দ্বিতীয় ম্যানেজার হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।
দুই দলের মুখোমুখি ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিসংখ্যানে এগিয়ে ইংল্যান্ড। তারা জিতেছে ৬টিতে, ড্র হয়েছে ৬টি এবং আর্জেন্টিনা জিতেছে মাত্র ২টিতে (যার একটি ১৯৯৮ সালের টাইব্রেকার জয়)। ১৯৮৬ সালের পর নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনার কাছে হারেনি থ্রি লায়ন্সরা।
সুপারকম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। ৯০ মিনিটে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৩৯.১ শতাংশ। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৩১.৬ শতাংশ। এবং ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়ারও রয়েছে ২৯.৩ শতাংশ সম্ভাবনা।
তবে সব মিলিয়ে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা ৫২.৯% এবং আর্জেন্টিনার ৪৭.১%। আটলান্টার এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসবে এবং কোন দল অমরত্বের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাবে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।