বিশ্বকাপ ফাইনাল
স্পেন-আর্জেন্টিনা: ৫ অবিশ্বাস্য কাকতাল
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে আগামীকাল স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা নিয়ে ৫টি অবিশ্বাস্য কাকতালীয় ঘটনা

লামিন ইয়ামাল ও লিওনেল মেসি
ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে আগামীকাল নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এ শুধু এক বিশ্বকাপ ফাইনাল নয়। আরো বেশি কিছু। বেশি বলতে, কিছু অবিশ্বাস্য কাকতালীয় ঘটনার মিলনমঞ্চ হতে যাচ্ছে ম্যাচটি। যে তথ্যগুলো অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে।
কেউ যদি কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন, তাহলে এই ঘটনাগুলো তাকে আরও অবাক করবে। আর যদি বিশ্বাস না-ও করেন, তবুও এতগুলো ঘটনার একসঙ্গে মিল পাওয়া সত্যিই বিস্ময়কর। যেন ফুটবলের ইতিহাস নিজেই বহু বছর ধরে আলাদা আলাদা গল্প লিখে শেষ পর্যন্ত এক জায়গায় এসে মিলছে।

১. যে স্টেডিয়ামে মেসি অবসর ঘোষণা করেছিলেন, সেখানেই কি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ?
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সঙ্গে লিওনেল মেসির সম্পর্ক আবেগের। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হেরে এই স্টেডিয়ামেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। যদিও পরে তিনি সিদ্ধান্ত বদলে জাতীয় দলে ফিরে আসেন, সেই মুহূর্তটি ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। দশ বছর পর ঠিক একই স্টেডিয়ামে তিনি খেলবেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। যে মাঠ তার হতাশার সাক্ষী ছিল, সেটিই কি এবার তার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে?

২. কোপা আমেরিকা ও ইউরোর চ্যাম্পিয়ন এবার বিশ্বসেরার লড়াইয়ে
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনও বর্তমান কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন ফাইনালে মুখোমুখি হয়নি। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফিনালিসিমা মার্চে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেই ম্যাচ বাতিল হয়। অনেকের মতে, যেন ভাগ্যই চেয়েছিল এই দুই মহাদেশের চ্যাম্পিয়নদের লড়াই ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ—বিশ্বকাপ ফাইনালেই হোক।

৩. ১৯ বছর আগের সেই ছবি, আজ বিশ্বকাপ ফাইনালে
২০০৭ সালে ইউনিসেফ ও ডাইরিও স্পোর্ট-এর একটি দাতব্য ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত একটি পরিবারের ছয় মাস বয়সী শিশুকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তিনি। সেই শিশুটি ছিল লামিন ইয়ামাল। তখন কেউই কল্পনা করতে পারেনি, ১৯ বছর পর এই দুজনই বিশ্বকাপ ফাইনালে একে অপরের প্রতিপক্ষ হবেন।
যে ছবিতে মেসি শিশুকে স্নান করাচ্ছিলেন, সেটিই আজ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী ছবিতে পরিণত হয়েছে।

৪. বারবার ফিরে আসছে ‘১৯’ সংখ্যাটি
এই ফাইনালকে ঘিরে ১৯ সংখ্যাটিও যেন বারবার সামনে আসছে। ২০০৭ সালের সেই ছবির সময় বার্সেলোনায় মেসির জার্সি নম্বর ছিল ১৯। ঠিক ১৯ বছর পর তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলছেন সেই শিশুর বিপক্ষে। লামিন ইয়ামাল এখন স্পেনের হয়ে ১৯ নম্বর জার্সি পরেন। সেমিফাইনালের আগের দিনই তার বয়স হয়েছে ১৯ বছর। পরবর্তীতে যেমন মেসি বার্সেলোনায় ১৯ নম্বর ছেড়ে কিংবদন্তি ১০ নম্বর জার্সি পান, তেমনি ভবিষ্যতে ইয়ামালের ক্ষেত্রেও অনেকে একই পথের সম্ভাবনা দেখছেন। এমনকি ফাইনালও অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৯ জুলাই।


৫. শিক্ষক বনাম ছাত্র
এই ফাইনালে আরেকটি বিশেষ গল্প রয়েছে দুই কোচকে ঘিরে। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ২০১৭ সালে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের কোচিং কোর্সে লিওনেল স্কালোনির প্রশিক্ষক ছিলেন। দুজনের মধ্যে এখনও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এবার সেই ছাত্রই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে নিজের সাবেক শিক্ষকের দলের বিপক্ষে শিরোপা রক্ষার লড়াইয়ে নামছেন।
ইতিহাসের অদ্ভুত মিল বা ফুটবলে কাকতালীয় ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু এতগুলো গল্প, এতগুলো চরিত্র এবং এত বছরের ব্যবধান পেরিয়ে একই ম্যাচে এসে মিলিত হওয়া সত্যিই বিরল। মেসির অবসরের স্টেডিয়াম, বাতিল হওয়া ফিনালিসিমা, ইয়ামালের শৈশবের সেই ছবি, রহস্যময় ‘১৯’ সংখ্যা এবং শিক্ষক-শিষ্যের দ্বৈরথ—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের এই বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু একটি ম্যাচ নয়, ইতিহাসের বহু অসমাপ্ত গল্পেরও হতে পারে—শেষ অধ্যায়।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।