খেলারদেশ

প্রতিশোধের মঞ্চে ব্রাজিল

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ : নকআউট পর্বের শেষ ৩২ যেন ব্রাজিলের প্রতিশোধের মঞ্চ হয়ে গেছে, আনচেলত্তির বিশ্বকাপ পরীক্ষার বড় ধাপ জাপান

প্রতিশোধের মঞ্চে ব্রাজিল

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ : ব্রাজিল ট্রেনিং - কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি, মরিসটাউন, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও জাপান। তবে এটি শুধু একটি নকআউট ম্যাচ নয়—কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলের জন্য এটি প্রতিশোধের সুযোগও।

২০২৫ সালের অক্টোবরে টোকিওতে এক প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও, শেষমেশ ৩-২ ব্যবধানে জাপানের কাছে হেরে যায় ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ২০ মিনিটেরও কম সময়ে তিন গোল হজম করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেটিই ছিল ১৪ দেখায় ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের ইতিহাসের প্রথম জয়।

সেই হার ছিল আনচেলত্তির জন্যও বড় এক সতর্কবার্তাও। রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বুঝেছিলেন, সামনে মাত্র এক বছর সময়—আর সেই সময়ের মধ্যেই ছন্নছাড়া একটি দলকে বিশ্বকাপের শিরোপাপ্রত্যাশী দলে পরিণত করতে হবে।

দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ক্যাম্পেইনের একটি শেষ করেছিল ব্রাজিল। চার ভিন্ন কোচের অধীনে খেলে তারা শেষ পর্যন্ত পঞ্চম স্থানে থেকে কোনোমতে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে।

মাত্র পাঁচটি আন্তর্জাতিক বিরতির সুযোগ পেয়েছিলেন আনচেলত্তি। ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল চূড়ান্ত করার আগে তিনি শেষ তিনটি উইন্ডো কাজে লাগিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলকে পরীক্ষা করেন।

এশিয়া সফরের শুরুটা ছিল দারুণ। সিউলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয় ব্রাজিল। এরপর টোকিওতেও প্রথম আধাঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল সেলেসাওরা।

কিন্তু এরপরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জাপান, আর হতাশাজনক এক পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রাজিলকে।

তবে সোমবারের ম্যাচটি হবে একেবারেই ভিন্ন।

গ্রুপ 'এফ'-এ সুইডেনের সঙ্গে ১-১ ড্র করে নেদারল্যান্ডসের পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করার পর জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসু বলেন, "হয়তো তারা আরও বেশি অনুপ্রাণিত হয়ে মাঠে নামবে। আমরা এমন এক ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি, যারা জয়ের জন্য ভীষণ ক্ষুধার্ত। ম্যাচটির অপেক্ষায় আছি।"

অক্টোবরে ব্রাজিলকে হারানো সেই জাপান দলের সঙ্গে এবারের স্কোয়াডের বেশ পার্থক্য রয়েছে। চোটের কারণে অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো, উইঙ্গার কাওরু মিতোমা ও তাকেফুসা কুবো এবং ফরোয়ার্ড তাকুমি মিনামিনো খেলতে পারবেন না। গত বছরের সেই ঐতিহাসিক জয়ে গোল করেছিলেন মিনামিনো।

অন্যদিকে ব্রাজিলও অনেক বদলে গেছে। টোকিওতে যারা রক্ষণভাগে খেলেছিলেন, তাদের কেউই আনচেলত্তির বর্তমান বিশ্বকাপ দলে নেই।

মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও এরপর টানা দুই জয়ে ছন্দ ফিরে পেয়েছে ব্রাজিল। ভিনিসিয়াস জুনিয়র ইতোমধ্যে করেছেন চার গোল, আর দীর্ঘ তিন বছর ধরে ইনজুরির সঙ্গে লড়াইয়ের পর জাতীয় দলে ফিরেছেন নেইমার।

Image

স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারানোর পর আনচেলত্তি বলেন, "আমরা নিখুঁত নই। এখনও অনেক উন্নতির সুযোগ আছে। বিশেষ করে বলের গতি আরও বাড়াতে হবে, আরও দ্রুত খেলতে হবে।"

তিনি আরও যোগ করেন,

"তবে আমি সন্তুষ্ট, কারণ প্রথম ম্যাচের তুলনায় দল অনেক উন্নতি করেছে। এখন নকআউট পর্ব। এখানে আমাদের সত্যিকারের লড়াকু মানসিকতা দেখাতে হবে।"

এই ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও গভীর এক ঐতিহাসিক সম্পর্ক।

জাপানি ফুটবলের বিকাশে ব্রাজিলের কিংবদন্তি জিকোর অবদান আজও স্মরণীয়। ফ্লামেঙ্গো, উদিনেজে ও ব্রাজিলের হয়ে সাফল্যের পর অবসর ভেঙে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সুমিতোমো মেটালের (বর্তমান কাশিমা অ্যান্টলার্স) হয়ে খেলেন তিনি। পরে ক্লাবটির কোচ হিসেবেও কাজ করেন এবং বর্তমানে প্রযুক্তিগত উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাপানের জাতীয় দলের কোচও ছিলেন জিকো। তাঁর অধীনেই ২০০৪ এশিয়ান কাপ জেতে জাপান। তবে ২০০৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

তাই হিউস্টনের এই লড়াই শুধু শেষ ষোলোর একটি ম্যাচ নয়; দুই দলের কাছেই এটি পুরোনো হিসাব চুকিয়ে নেওয়ার আরেকটি সুযোগ।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।