দুর্দান্ত ফ্রান্সের মুখে লড়াকু প্যারাগুয়ে
ফিলাডেলফিয়ায় আজ রাতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স ও লাতিন আমেরিকার চমক প্যারাগুয়ে।

আজ রাতে মাঠে নামছে প্যারাগুয়ে ও ফ্রান্স
- ফ্রান্স নিরঙ্কুশ ফেভারিট, একটি অনলাইন জরিপে ২৫ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৭৯.৭ শতাংশই বলেছে ফ্রান্স নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জয় পাবে।
- প্যারাগুয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে আগের পাঁচ ম্যাচে কোনো জয়ের দেখা পায়নি। বিশ্বকাপে দুইবার মুখোমুখি হয়ে দু’বারই হেরেছে।
- মাইকেল ওলিসে আরেকটি অ্যাসিস্ট করলেই বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডে পেলের (৬, ১৯৭০) সঙ্গে সমতায় পৌঁছে যাবেন।
ফিলাডেলফিয়ায় আজ রাতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স ও লাতিন আমেরিকার চমক প্যারাগুয়ে। গুস্তাভো আলফারোর দল ইতোমধ্যেই ইতিহাস গড়েছে—চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে। ১-১ গোলে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে টাইব্রেকারে জয় এনে দেয় পারাগুয়ে। এর আগে মাত্র একবারই তারা শেষ ষোলো থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল, ২০১০ সালে জাপানকে টাইব্রেকারে হারিয়ে।
পারাগুয়ের ভরসা এনসিসো
দলের আক্রমণভাগে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম জুলিও এনসিসো। এই বিশ্বকাপে তিনি এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টসহ মোট তিনটি গোলের সঙ্গে যুক্ত। সবচেয়ে বেশি শট (৮), সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি (৬), প্রতিপক্ষের বক্সে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ (১১) এবং সবচেয়ে বেশি ড্রিবল (১২) করেছেন এনসিসো। জার্মানির বিপক্ষে তার গোলই ছিল পারাগুয়ের ইতিহাসে প্রথম নকআউট গোল।

প্যারাগুইয়ানরা তাকিয়ে থাকবে এনসিসোর দিকেই
তবে আক্রমণে দুর্বলতা স্পষ্ট—শেষ সাত ম্যাচে তারা কখনোই একাধিক গোল করতে পারেনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের গড় গোল মাত্র ১.১ প্রতি ম্যাচে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার পর সবচেয়ে কম।

অলিসের সামনে পেলের রেকর্ড ছোঁয়ার সম্ভাবনা
দুর্দান্ত ফর্মে ফ্রান্স
আক্রমণভাগ নিয়ে ধুকতে থাকা প্যারাগুয়ের বিপরীতে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ যেন আগুনে। সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা, যেখানে কিলিয়ান এমবাপ্পে দুইবার এবং ব্র্যাডলি বারকোলা একবার জালে বল পাঠিয়েছিলেন। এমবাপ্পে, উসমানে দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের গোল অবদান মিলে ফ্রান্সকে ২০০২ সালের ব্রাজিলের মতো রেকর্ড এনে দিয়েছে। ওলিসে একাই পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন, যা ১৯৯৪ সালের পর কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ। তার সৃজনশীলতা পেলের রেকর্ডের সঙ্গে তুলনীয়।
ইতিহাস ও সম্ভাবনা
ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশঁম ইতোমধ্যেই নয়টি নকআউট জয় পেয়েছেন, আরেকটি জয় পেলে তিনি হবেন প্রথম কোচ যিনি দশটি নকআউট ম্যাচ জিতবেন। শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের ধারাবাহিকতা দুর্দান্ত—টানা সাতবার তারা জয় পেয়েছে।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ফ্রান্স এগিয়ে। ছয় ম্যাচে তারা অপরাজিত (৩ জয়, ২ ড্র)। বিশ্বকাপে আগের দুইবারও ফ্রান্স জয় পেয়েছে—১৯৫৮ সালে ৭-৩ এবং ১৯৯৮ সালে ১-০ গোলে। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্সের জয়টি সেই অদ্ভুত গোল্ডেন গোলের নিয়মে। যা ওই একটি বিশ্বকাপের পরই বাতিল হয়ে যায়।
সম্ভাবনার হিসাব
অপ্টার সুপারকম্পিউটার অনুযায়ী ফ্রান্সের জয় সম্ভাবনা প্রায় ৭৯.৭ শতাংশ। প্যারাগুয়ের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৬.৭ শতাংশ, আর ড্রয়ের সম্ভাবনা ১৩.৬ শতাংশ। সব মিলিয়ে ফ্রান্সের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৮৬.৬ শতাংশ, যেখানে প্যারাগুয়ের সুযোগ মাত্র ১৩.৪ শতাংশ।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।