বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬
মরক্কো যে কারণে বিশ্বকাপ জেতার দাবিদার
টানা দ্বিতীয়বার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা মরক্কোও বিশ্বকাপ জেতার দাবিদার। রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে অন্যতম স্বাগতিক কানাডাকে তারা হারিয়েছে ৩-০ গোলে।

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো মরক্কো
গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা বা সবশেষ ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জেতাটা যে মরক্কোর ফ্লুক কোনো ঘটনা না, এটলাস লায়ন্স দল তা এই বিশ্বকাপেও প্রমাণ করে যাচ্ছে।
উত্তর আফ্রিকার দলটিকে এখন ফুটবলের পরাশক্তি বলাই যায়। মরক্কোকে হারাতে যেকোনো দলকে তাদের সেরা খেলাটাই খেলতে হয়, হোক তা ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন বা ব্রাজিল। ওহ, এই দল তো হারতেই ভুলে গেছে। আশরাফ হাকিমি-ইসমাইল সাইবারিদের সবশেষ ৩৪ ম্যাচে হারাতে পারেনি কোনো দল।
চ্যাম্পিয়ন দল বা বড় দলের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। এর সবকটিই বর্তমান মরক্কো দলে আছে। বড় দল তাদের খারাপ খেলা ম্যাচেও মোমেন্টাম কাজে লাগিয়ে ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনতে জানে; রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় থাকে; দল একজন-দুজনের ওপর নির্ভর করে না; প্রাপ্ত সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে জানে, নিজেদের খেলাটা বা আইডেন্টিটি কী তা ভালোভাবে জানে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সাথে হার না মানা মানসিকতা ও দলের ঐক্য তো আছেই! খেয়াল করে দেখুন, মরক্কো দলে সব বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।

কানাডার বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন মিডফিল্ডার ওনাহি (জার্সি নম্বর আট)
রাউন্ড অব সিক্সটিনে অন্যতম স্বাগতিক কানাডার বিপক্ষে ম্যাচেও একইরকম মরক্কোকে দেখা গেছে। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো থেকে রক্ষণভাগ, মাঝমাঠ হয়ে আক্রমণভাগের প্রত্যেকের বোঝাপড়া দারুণ। একে অপরের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে, ব্যক্তিগত সাফল্য পুরো দলই উদযাপন করছে।
কানাডা গতিময় ও আক্রমাণাত্মক ফুটবল খেলেছে। মরক্কোও এক বিন্দু জায়গা ছাড় দেয়নি। যে কারণে কানাডার আক্রমণগুলি মরক্কোর রক্ষণে গিয়ে তেমন সুবিধা করতে পারেনি।
প্রথমার্ধে মরক্কোর আক্রমণে ধার কম ছিলো, কিন্তু ম্যাচের এক মুহূর্তও দলটিকে নার্ভাস মনে হয়নি। অবশ্য প্রথমার্ধে গোলের জন্য শটের চেয়ে হলুদ কার্ডের সংখ্যা বেশি দুই দলেরই! বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট মাচের ইতিহাসে এর আগে এমনটা আর ঘটেনি! কানাডার দুজন আর মরক্কোর চার খেলোয়াড় প্রথম ৪৫ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখে ফেলে!
দ্বিতীয়ার্ধে বল পজেশন ধরে রাখার সাথে কাউন্টার অ্যাটাকের দিকে মনযোগী হয় মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে নাম্বার টেন ব্রাহিম দিয়াজের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় লিংক আপ খেলায় কানাডার রক্ষণ ভেঙে দুটি গোল আদায় করে নেন মিডফিল্ডার আজ্জেদিন ওনাহি, জোসে মরিনিয়ো আর লুই এনরিকের মতন কোচ যাঁর খেলার অনুরাগী!
এর আগে মরক্কোর জার্সিতে সেন্টাল মিডফিল্ডার ওনাহির গোল ছিলো একটি, শুক্রবার এক ম্যাচেই পেয়ে গেলেন দুই গোল! প্রথম গোলটি তিনি করেছেন ৫০ মিনিটে আশরাফ হাকিমির পাস থেকে, দ্বিতীয় গোল এসেছে ব্রাহিম দিয়াজের সহায়তায়, ৮২ মিনিটে।

বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোলটি করছেন রাহিমি
তিন নম্বর গোলটিও মরক্কো পায় কাউন্টার অ্যাটাক থেকে। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিট অর্থাৎ শেষ বাঁশি বাজার আগে ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে এই বিশ্বকাপে নিজের তিন নম্বর গোলটি করেন সুফিয়ান রাহিমি। আরও একটি গোল পেতে পারতেন ৩০ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। গোলপোস্টের বাধায় তা হয়নি।
এই ম্যাচে দুটি সহ এ পর্যন্ত চারটি গোলে সহায়তা করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারিকা দিয়াজ। আফ্রিকান কোনো ফুটবলারের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখন দিয়াজের।
ম্যাচে কানাডা ৭টি গোলের সুযোগ তৈরি করে তিনটি অনটার্গেট শট, কর্নার আদায় করেছে ১১টি। কিন্তু মরক্কোর রক্ষণ আর ইয়াসিন বুনোকে ফাঁকি দিয়ে গোল করতে পারেনি।
মরক্কো-কানাডার এই ম্যাচ মরক্কোর টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্যেই কেবল স্মরণীয় হতে পারতো। কিন্তু নেতিবাচক কারণেও ম্যাচটি মনে রাখবেন দর্শকরা। দুই দল এই ম্যাচে ৩৮টি ফাউল করেছেন, কার্ড দেখেছেন ৮ জন ফুটবলার!
শেষ আটে মরক্কোর জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাটি অপেক্ষা করছে। পরীক্ষার নাম কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স। এই পরীক্ষায় কোচ এম ওয়াহাবি ও তাঁর দল উৎরে যেতে পারলে মরক্কোর ফুটবল রূপকথার গল্পে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

রুহুল মাহফুজ জয়
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।