খেলারদেশ

রোনালদোর পর্তুগালের পথে স্পেনের বাধা

রোনালদোর পর্তুগালের পথে স্পেনের বাধা।

রোনালদোর পর্তুগালের পথে স্পেনের বাধা

রোনালদোর পর্তুগালের পথে স্পেনের বাধা

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি অনুষ্ঠিত হবে আজ রাত ১টায় (বাংলাদেশ সময়) টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই ইবেরিয়ান শক্তি—পর্তুগাল ও স্পেন—মুখোমুখি হবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে।

রবার্তো মার্তিনেজের পর্তুগাল শেষ ৩২-এর ম্যাচে নাটকীয়ভাবে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন তুলনামূলক স্বচ্ছন্দেই অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পরের রাউন্ডে এসেছে।

নাটকীয় জয়ে বেঁচে আছে রোনালদোর স্বপ্ন

Image

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে বদলি হওয়া ক্রিস্টি য়ানো রোনালদো বেঞ্চে বসেই দেখছিলেন যশকো গাভার্দিওল অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ানোর মতো গোল করেছেন। তার আগে ইভান পেরিশিচ, গনসালো রামোস ও রোনালদো নিজে গোল করেছিলেন।

তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি রেনাতো ভেইগা ও মারিও পাশালিচের গায়ে লেগে গভার্দিওলের কাছে পৌঁছায়। প্রশ্ন ছিল, অফসাইডে থাকা ইগর মাতানোভিচের মাথায় বল লেগেছিল কি না। রিপ্লেতে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বল-সেন্সর প্রযুক্তি (স্নিকোমিটার) নিশ্চিত করে যে মাতানোভিচ বল স্পর্শ করেছিলেন। ফলে ক্রোয়েশিয়ার শেষ মুহূর্তের সমতাসূচক গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

এর মধ্য দিয়েই রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন টিকে যায়, আর লুকা মদ্রিচের বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ হয়।

৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান, তবে নতুন চ্যালেঞ্জ

এই জয়ে পর্তুগাল আরও একটি ইতিহাস গড়েছে। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে পিছিয়ে পড়েও নকআউট ম্যাচ জিতেছে তারা।

তবে শেষ ষোলো পর্ব পর্তুগালের জন্য সুখকর নয়। ২০১০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে এই রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। একইভাবে ইউরো ২০২০-তেও শেষ ষোলোতে থেমে যায় তারা, এরপর ২০২২ বিশ্বকাপ ও ইউরো ২০২৪-এ কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েই বিদায়।

স্পেনের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে

Image

স্পেনও নিজেদের নকআউট অভিশাপ কাটিয়েছে। অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার জয়সূচক গোলের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের বাইরে কোনো ম্যাচ জিতেছে লা রোহা।

মিকেল ওইয়ারসাবালের জোড়া গোল এবং পেদ্রো পোরোর একটি হেডে সহজ জয় পায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। ওইয়ারসাবাল এখন জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ১৬টি শুরুর ম্যাচে ২৩টি গোল বা অ্যাসিস্টে অবদান রেখেছেন।

এছাড়া ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে একাধিক গোল করেছে স্পেন।

শক্তির জায়গা এখন রক্ষণভাগ

বিশ্বকাপে টানা তিন জয়ে থাকা স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে তাদের রক্ষণ।

লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে একটি গোলও হজম করেনি। সহ-আয়োজক মেক্সিকোর সঙ্গে তারাই একমাত্র দল যারা এখনও ক্লিন শিট ধরে রেখেছে।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি প্রতিপক্ষ। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা-জার্মানির ম্যাচের পর বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচে এমন ঘটনা এই প্রথম।

মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে স্পেন

দুই প্রতিবেশী দেশের লড়াইয়ে ইতিহাসও স্পেনের পক্ষেই কথা বলছে। এখন পর্যন্ত ৪১টি মুখোমুখি লড়াইয়ে মাত্র সাতবার হেরেছে স্পেন।

তবে সর্বশেষ দেখায়—২০২৪-২৫ উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে—টাইব্রেকারে জিতে শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল।

দলীয় খবর

পর্তুগালের পুরো স্কোয়াডই ফিট রয়েছে। তাই রবার্তো মার্তিনেজ বিজয়ী একাদশে বড় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নেই।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ নকআউটে নিজের প্রথম গোল করার পরও রোনালদোকে আগেভাগে তুলে নেওয়ায় তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন। তবে স্পেনের বিপক্ষেও শুরু থেকেই মাঠে থাকার সম্ভাবনা বেশি।

গনসালো রামোস বদলি হিসেবে নেমে আবারও দারুণ প্রভাব ফেলেছেন। বিশ্বকাপে পাঁচ বা তার বেশি গোল-অ্যাসিস্টে জড়িত পর্তুগিজদের মধ্যে প্রতি ৩৭ মিনিটে একটি করে গোল বা অ্যাসিস্টে অবদান রেখে তিনিই সবচেয়ে কার্যকর। তবু এবারও তাকে সুপার-সাব হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

ডান উইংয়ে পেদ্রো নেতো, বের্নার্দো সিলভা ও ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।

স্পেন শিবিরে লামিন ইয়ামাল, পেদ্রো পোরো, দানি ওলমো ও আইমেরিক লাপোর্তে শুক্রবার পূর্ণমাত্রায় অনুশীলন না করলেও গুরুতর কোনো চোট নেই। মূলত তাদের ওপর চাপ কমাতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে ইয়েরেমি পিনো (কাঁধ) ও নিকো উইলিয়ামস (অ্যাডাক্টর) এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে, যদিও পরবর্তী রাউন্ডে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্ভাব্য একাদশ

পর্তুগাল (৪-২-৩-১): দিওগো কস্তা; জোয়াও কানসেলো, রুবেন দিয়াস, রেনাতো ভেইগা, নুনো মেন্দেস; ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস; পেদ্রো নেতো, ব্রুনো ফার্নান্দেস, রাফায়েল লেয়াও; ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

স্পেন (৪-২-৩-১): উনাই সিমন; পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া; রদ্রি, পেদ্রি; লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, আলেক্স বায়েনা; মিকেল ওইয়ারসাবাল।

সম্ভাব্য ফল

দুই দলই এই বিশ্বকাপে গড়ে ৬০ শতাংশের বেশি বল দখলে রেখেছে। ফলে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারিত হতে পারে মাঝমাঠের লড়াইয়ে।

তবে টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেনের রক্ষণ অনেক বেশি সংগঠিত ও স্থিতিশীল দেখিয়েছে। তাই কঠিন লড়াইয়ের পরও লা রোহারই জয়ের সম্ভাবনা বেশি।

সম্ভাব্য স্কোর: পর্তুগাল ১-২ স্পেন।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।