৭২ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ড শেষবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল ১৯৫৪ সালে

সিয়াটলের মাঠে তখন চরম উৎকণ্ঠা আর স্নায়ুযুদ্ধের চূড়ান্ত মুহূর্ত। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়ের আরও ৩০ মিনিট—সব মিলিয়ে ১২০ মিনিটের ম্যারাথন লড়াইয়েও যখন ভাঙল না ডেডলক, তখন ম্যাচ গড়াল ভাগ্যের নির্মম লটারি পেনালটি শুটআউটে। আর সেই টাইব্রেকার ৩-৪ গোলে ল্যাটিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়াকে হারিয়ে মহাকাব্যিক জয় তুলে নিল সুইজারল্যান্ড। এই জয়ের সাথে সাথেই দীর্ঘ ৭২ বছরের জুজু কাটিয়ে ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল আল্পসের দেশটি।
ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেওয়া টাইব্রেকারে কলম্বিয়ার হয়ে মিস করেন দাভিনসন সানচেজ ও কুচো হার্নান্দেজ। এর মধ্যে হার্নান্দেজের শট রুখে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলকিপার গ্রেগর কোবেল। সুইজারল্যান্ডের শুধু মানুয়েল আকাঞ্জি মিস করেন। পেনালটি শুটে না পারলেও ১২০ মিনিটের খেলায় কলম্বিয়াই বেশি সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। ১৫টি শটের মধ্যে ৩টি ছিল লক্ষ্যে, কর্নারও আদায় করেছে ৭টি। কিন্তু সুইজারল্যান্ড মাত্র ৭ শট আর ৩ কর্নার নিয়েও ম্যাচের শেষ পর্যন্ত নিজেদের ধরে রেখেছে। ম্যাচে কলম্বিয়ার প্রথম বড় সুযোগ আসে ২১ মিনিটে। তখন কেভিন পুয়ের্তার দারুণ বাঁকানো শট দুর্দান্ত সেভে ফিরিয়ে দেন সুইজারল্যান্ড গোলকিপার কোবেল। সুইসদের ভালো সুযোগ আসে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। এনদোয়ের পাস থেকে জিব্রিল সো ফাঁকা অবস্থায় বল পেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ৬৪ মিনিটে ফাঁকা জায়গা পেয়ে বাইরে শট মারেন কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজ। এরপর দুই দলই ‘আগে রক্ষণ’ নীতি নিয়ে খেলতে শুরু করলে ম্যাচ গোলশূন্য সমতায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। আধা ঘণ্টার এই খেলায়ও ভালো সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া। ১১৬ মিনিটে সুইস রক্ষণভাগের ভুলে গোলকিপারকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন কাম্পাস। কিন্তু সময় ও জায়গা পেয়েও তিনি শট উড়িয়ে মারেন গ্যালারিতে। এর আগে ২১ মিনিটে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগ পায় কলম্বিয়া। কেভিন পুয়ের্তার একটি দারুণ বাঁকানো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন সুইস গোলকিপার কোবেল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু হয় সুইজারল্যান্ডের মিস দিয়ে এনদোয়ের পাস থেকে ফাঁকায় বল পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন সুইস ফরোয়ার্ড জিব্রিল সো। অনেকটা একই রকম সুযোগ মিস করেন কলম্বিয়ান লুইস দিয়াজ। ফাঁকা জায়গায় বল পেয়েও পোস্টের বাইরে মারেন কলম্বিয়ার তারকা লুইস দিয়াজ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কেউ গোল না পাওয়ায় দুই দলই রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়, ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ১১৬ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করে কলম্বিয়া। সুইস ডিফেন্সের মারাত্মক ভুলে গোলকিপারকে একদম একা পেয়ে যান কাম্পাস। কিন্তু যথেষ্ট সময় ও জায়গা পেয়েও তিনি বল উড়িয়ে মারেন গ্যালারিতে।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।