বিতর্কে ইনফান্তিনো, বাড়ছে পদত্যাগের চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এই সিদ্ধান্তের পর আবারও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় ফিফা প্রেসিডেন্টকে নিয়ে। বেলজিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করলেও সেটি খারিজ হয়ে যায়। এরপর প্রকাশ্যে আসে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সেই তথ্য সামনে আসতেই ফিফার স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এই সিদ্ধান্তের পর আবারও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় ফিফা প্রেসিডেন্টকে নিয়ে। বেলজিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করলেও সেটি খারিজ হয়ে যায়। এরপর প্রকাশ্যে আসে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সেই তথ্য সামনে আসতেই ফিফার স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
ইনফান্তিনো অবশ্য শুরু থেকেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফার স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি।
ইনফান্তিনো কি পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে পারেন?
এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনো পদত্যাগের কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে আবারও ফিফা সভাপতির পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। যদিও ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশন ও রাজনীতিকদের সমালোচনা ক্রমেই বাড়ছে, তবুও বর্তমানে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক সদস্য সংস্থার সমর্থন তার পক্ষেই রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে তাকে পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। তবে যদি আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার সমর্থনও হারাতে শুরু করেন, তাহলে তার ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
ইনফান্তিনোর বিকল্প কে?
২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হওয়া ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে এখনো কোনো শক্তিশালী প্রার্থী সামনে আসেননি। বর্তমানে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (CAF), এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) এবং কনমেবল (CONMEBOL)-এর আনুষ্ঠানিক সমর্থন রয়েছে তার পক্ষে। এই তিন মহাদেশীয় সংস্থার সদস্যসংখ্যা মিলিয়ে ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে ১১১টি।
কারা পদত্যাগের দাবি তুলেছেন?

ইউর্গেন ক্লপ
ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টেইন এবং যুক্তরাজ্যের কয়েকজন রাজনীতিক। এছাড়া জার্মানির নতুন কোচ হতে যাওয়া ইউর্গেন ক্লপ এবং ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারও ইনফান্তিনোর সমালোচনা করেছেন।

ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার
কবে হবে পরবর্তী ফিফা সভাপতি নির্বাচন?
ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৮ মার্চ ২০২৭, মরক্কোর রাবাতে। ইনফান্তিনো পুনর্নির্বাচিত হলে তার মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়বে।
ইনফান্তিনোর আলোচিত বিতর্কগুলো

• ২০১৬: প্যানামা পেপার্সে নাম আসে। উয়েফায় কর্মরত অবস্থায় স্বাক্ষর করা একটি টিভি সম্প্রচার চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
• ২০১৬: ফিফার নৈতিকতা কমিটি তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত শুরু করে।
• ২০১৭: ফিফার নৈতিকতা কমিটির দুই প্রধান কর্মকর্তা কর্নেল বোরবেলি ও হান্স-ইয়োয়াখিম একার্টকে সরিয়ে দেন। পরে অভিযোগ ওঠে, তারা ইনফান্তিনো-সংক্রান্ত কিছু বিষয় তদন্ত করছিলেন।
• সুইস অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে গোপন বৈঠক: আন্তর্জাতিক ফুটবলের দুর্নীতি তদন্ত চলাকালে সুইজারল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেল মাইকেল লাউবারের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন। পরে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হলেও ২০২৩ সালে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়।
• রাজনৈতিক সম্পর্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভ্লাদিমির পুতিন এবং কাতার ও সৌদি আরবের শাসক পরিবারগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও সমালোচিত হয়েছেন।
• কাতার বিশ্বকাপ ২০২২: মানবাধিকার ইস্যু সামলানোর ধরন এবং তার বিতর্কিত মন্তব্য—“আজ আমি নিজেকে কাতারি, আরব, আফ্রিকান, সমকামী, প্রতিবন্ধী এবং অভিবাসী শ্রমিক মনে করছি”—বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।