বিশ্বকাপে লাল কার্ড, তবু ফাইনালে খেলা: বালোগুন বিতর্ক টেনে নেয় ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপ ইতিহাসে
বিশ্বকাপে লাল কার্ড স্থগিতের প্রথম নজির কে?
বালোগুন বা রোনালদোর লাল কার্ড স্থগিতের ঘটনাই প্রথম নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগেও রয়েছে এ ধরনের নজির

ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শাস্তি আংশিক স্থগিত—এ ধরনের সিদ্ধান্ত ফুটবলে এই প্রথম নয়। ইতিহাসের পাতায় আরও পুরোনো এবং আরও বিখ্যাত একটি নজির রয়েছে। ১৯৬২ বিশ্বকাপে ব্রাজিল কিংবদন্তি গ্যারিঞ্চার ঘটনাই তার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ।
১৯৬২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক চিলির বিপক্ষে ম্যাচে গ্যারিঞ্চা লাল কার্ড দেখেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী তার ফাইনালে খেলার কথা ছিল না। কিন্তু পরে ফিফা ঘটনাটি পর্যালোচনা করে তাকে কেবল সতর্কবার্তা দেয় এবং পরের ম্যাচের জন্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে গ্যারিঞ্চা ফাইনালে খেলেন, এবং ব্রাজিলের হয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতেন।

ব্রাজিল দল, পেলে ও গ্যারিঞ্চা, ১৯৬২
ছয় দশকেরও বেশি সময় পর ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই পুরোনো নজির আবার আলোচনায় আসে, তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগুন। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী তার শেষ ষোলোর ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি শাস্তি বহাল রেখেই তার এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়া এক বছরের জন্য স্থগিত করে। ফলে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার অনুমতি পান।
সেই অতীতের আরেকটি উদাহরণ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ২০২৫ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর রোনালদোকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে ফিফা জানায়, শেষ দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত থাকবে। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই পর্তুগালের জার্সিতে খেলতে তার কোনো বাধা থাকেনি।
এই কারণেই বালোগুনের ঘটনায় অনেকেই রোনালদোর সেই সিদ্ধান্তের উদাহরণ টেনে আনেন। তবে সমালোচকদের মতে, বিশ্বকাপ চলাকালীন একটি স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা এবং বাছাইপর্বের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার প্রেক্ষাপট এক নয়। তবুও দুই ক্ষেত্রেই ফিফার শৃঙ্খলা বিধির একই ধরনের ক্ষমতা ব্যবহৃত হওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
গ্যারিঞ্চার ঘটনাটি যেমন নতুন করে আলোচনায় এসেছে, তেমনি ইতিহাসে আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ রয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে। ২০০৪ উয়েফা ইউরো কাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েন রুনির সঙ্গে সংঘর্ষের পর রোনালদো লাল কার্ড দেখেছিলেন। তবে পরবর্তীতে তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়। এতে পরবর্তী প্রতিযোগিতায় তিনি কোনো ম্যাচ মিস করেননি। যদিও সেটা বিশ্বকাপ ছিল না, তবু শাস্তি স্থগিতের বিষয়টি আলোচনায় প্রায়ই উদাহরণ হিসেবে উঠে আসছে।

বালোগুন
অন্যদিকে, গ্যারিঞ্চা ও বালোগুনের ঘটনার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ১৯৬২ সালে গ্যারিঞ্চার ক্ষেত্রে ফিফা সরাসরি ফাইনালে খেলার পথ খুলে দেয়। আর ২০২৬ সালে বালোগুনের ক্ষেত্রে লাল কার্ড বহাল রেখেই কেবল স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। অর্থাৎ কার্ড বাতিল করা হয়নি, বরং শাস্তি কার্যকর হওয়ার সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফলে বালোগুনের ঘটনাকে একেবারে নজিরবিহীন বলা যায় না। গ্যারিঞ্চা ও রোনালদোর ঘটনাও দেখায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে ফিফা অতীতেও শাস্তি পুনর্বিবেচনা বা স্থগিত করার ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। তবে বিশ্বকাপের মাঝপথে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ২০২৬ সালের বালোগুন বিতর্ক ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।