খেলারদেশ

হালান্ডের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ অভিযান চলছেই, থামানো সম্ভব?

হালান্ডকে যেভাবে থামাবে ইংল্যান্ড

২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়েকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন আর্লিং হালান্ড। ইতোমধ্যে সাত গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা তারকা হয়ে উঠেছেন। শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নরওয়েকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন তিনি। অভিষেক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের ৫২ বছর পুরোনো রেকর্ডে (১৯৭৪ সালে গ্রেজেগোর্জ লাতোর ৭ গোল) ভাগ বসিয়েছেন। নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই তিনি লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অভিষেক বিশ্বকাপের মোট গোলসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনিই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি বাঁ পা, ডান পা, হেড, বক্সের ভেতর এবং বক্সের বাইরে—সবভাবে গোল করেছেন। ইংল্যান্ড কি পারবে এই হালান্ডকে থামাতে?

হালান্ডকে যেভাবে থামাবে ইংল্যান্ড

হালান্ডের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ অভিযান চলছেই, থামানো সম্ভব?

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াই শেষ। এখন সব নজর কোয়ার্টার ফাইনালে। যেখানে ইংল্যান্ডের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নরওয়ে—আর বাস্তবে বলতে গেলে, আর্লিং হালান্ডকে থামানো। বাংলাদেশ সময় ১২ জুলাই, রাত ৩টায় মুখোমুখি হবে দুই দল।

গণমাধ্যমের আলোচনায় যেন নরওয়ে নয়, যেন ইংল্যান্ড খেলতে নামছে শুধু হালান্ডের বিপক্ষে। ভাবনাটা অস্বাভাবিকও নয়। চার ম্যাচে সাত গোল করে টুর্নামেন্টে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষদের একজন হিসেবে থাকা এই স্ট্রাইকার একাই নরওয়েকে টেনে তুলেছেন শেষ আটে।

তবে ইংল্যান্ড দলের দাবি, তারা প্রস্তুত। মার্ক গেহি জানিয়েছেন, হালান্ডকে মোকাবিলা করা কঠিন হলেও দল হিসেবে তারা প্রস্তুত।

আমি জানি, সেও ম্যাচটির জন্য মুখিয়ে থাকবে, প্রস্তুত থাকবে। তাই এটা কঠিন এক চ্যালেঞ্জ হবে। যদিও পরিচিত একজন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে ভালো লাগবে। আমরাও নিজেদের সেরাটা দিয়ে জয়ের চেষ্টা করব। ম্যাচটাও নিঃসন্দেহে উপভোগ্য হবে।

মার্ক গেহি

যদিও গেহি হলান্ডকে থামানোর কোনো নির্দিষ্ট কৌশল প্রকাশ করেননি। বরং দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন পারস্পরিক বিশ্বাস ও ঐক্যকে।

আমাদের মধ্যে আগে থেকেই আত্মবিশ্বাস ছিল, এখন আরও বেড়েছে। আমরা এ নিয়ে আলোচনা করেছি। সবাই একে অপরের ওপর আস্থা রাখছে এবং সেই বন্ধন আরও শক্ত হচ্ছে। এখন এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।

মার্ক গেহি

তবে ডেইলি মিরর-এর সাংবাদিক জন ক্রস মনে করেন, শুধু দলীয় ঐক্য দিয়ে হালান্ডকে থামানো সম্ভব না। তার মতে, ইংল্যান্ডের প্রকৃত পরিকল্পনা কী—সেটাও স্পষ্ট না। আর শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই মন্তব্য করেন, “হালান্ডকে তাহলে কীভাবে থামাবেন? সহজ উত্তর হচ্ছে—থামানো অসম্ভব।”

Image

আলিং হালান্ডের শক্তি, গতি ও দুর্দান্ত ফিনিশিং ক্ষমতার সমন্বয় যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য বড় আতঙ্ক। ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টে সাত গোল করা এই স্ট্রাইকারকে শনিবার মিয়ামিতে সামান্যও জায়গা দিলে তার মূল্য ইংল্যান্ডকে চুকাতে হতে পারে।

হালান্ডকে কীভাবে থামানো যায়—এমন প্রশ্নে হেসে ফেলেন ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার মরগান রজার্স। “আলিং হালান্ডকে কখনও কেউ সত্যিই থামাতে পেরেছে? আমার তো মনে হয় না। তবে আমরা চেষ্টা করব।”

রজার্স আরও বলেন,

সে অবিশ্বাস্য এক খেলোয়াড়। সে যা করে, যে পরিসংখ্যান গড়ে—তাতেই বোঝা যায় কতটা ভালো খেলোয়াড় হালান্ড। তাই হয়তো আমাদের চেষ্টা করতে হবে যেন তার কাছে বলই না পৌঁছায় এবং সে গোলের সুযোগ না পায়। কারণ, গোলের সামনে সে সর্বোচ্চ লেভেলের ভয়ংকর।

অ্যাস্টন ভিলার হয়ে খেলা রজার্সের দল অবশ্য ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ভিলা পার্কে খেলা সর্বশেষ চার ম্যাচেই হালান্ডকে গোলশূন্য রাখতে পেরেছে। তবে এটিকে তিনি কৌশলের চেয়ে কিছুটা ভাগ্যের ফল বলেই মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, শুধু হালান্ড নন—আর্সেনাল অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডসহ ইংলিশ ক্লাবগুলোতে খেলা নরওয়ের অন্য ফুটবলাররাও সমান হুমকি হতে পারেন।

মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়ের পর প্রথম অনুশীলনেই দলের বার্তা ছিল আরও এগিয়ে যাওয়ার। মরগান রজার্স বলেন, “আজ অনুশীলনে ফিরে আমাদের বার্তা ছিল—আবারও সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, আরও এগিয়ে যেতে হবে। আমরা এখনও উন্নতির সুযোগ রাখি এবং আরও ভালো খেলতে পারি।”

তিনি আরও বলেন, দলের অনেক খেলোয়াড়ের জন্য এটিই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচ হতে যাচ্ছে। বলেন, “আমাদের অনেকের জন্যই এটি সম্ভবত এখন পর্যন্ত খেলা সবচেয়ে বড় ম্যাচ, বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এমন পরিস্থিতিতে।”

রজার্স জানান, মেক্সিকো সিটিতে জয়ের পর উদ্‌যাপনের সময় হাতে চোট পেয়ে অস্ত্রোপচার করা অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসনকে আবার স্কোয়াডে ফিরে পাওয়ায় পুরো দল ভীষণ আনন্দিত।

এটাই তার ব্যক্তিত্বের পরিচয়। আজ সকালে তাকে হাসিমুখে দেখে খুব ভালো লেগেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় তার সঙ্গে যা-ই ঘটুক না কেন, সে আগের মতোই ইতিবাচক। আমাদের দলের প্রাণকেন্দ্রই যেন সে।

মরগান রজার্স

এদিকে, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড সমর্থকদের মধ্যে নতুন এক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা একসঙ্গে ওয়েসিস ব্যান্ডের জনপ্রিয় গান ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ গেয়ে উদ্‌যাপন করছেন।

রজার্সকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি গানটির কথা জানেন কি না—তখন তিনি আবারও হেসে ফেলেন।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।