ইনফান্তিনোর ওপর নতুন চাপ
ইনফান্তিনোর পদত্যাগের চাপ বাড়ছেই

ইনফান্তিনো ও ট্রাম্প-সম্পর্ক তদন্তের দাবি ৭২ ইউরোপীয় আইনপ্রণেতার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে চাপে পড়েছে ফিফা। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (এমইপি) ৭২ জন সদস্য আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানদের কাছে যৌথ চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে দেখা দেওয়া ‘স্বচ্ছতার অভাব ও সততার সংকট’-এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া তদন্ত করা জরুরি এবং ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোকে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হবে। এই উদ্যোগের অন্যতম স্বাক্ষরকারী আইরিশ এমইপি ব্যারি অ্যান্ড্রুজ বলেন, “বিশ্বকাপ চলাকালীন লাল কার্ডে নিষেধাজ্ঞার নিয়ম বদলে ফিফা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ন্যায়বিচারের চরম বিকৃতি ও লজ্জাজনক।”
মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই উয়েফা ও ফিফার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন ট্রাম্প নিজেই দাবি করেন, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বালোগুনের লাল কার্ডের শাস্তি প্রত্যাহারের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছেন। এর জবাবে উয়েফা, জার্মানি ও বেলজিয়ামের ফুটবল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই ঘটনায় ফুটবলের নৈতিকতার সীমালঙ্ঘন করা হয়েছে।
যদিও ইনফান্তিনোর দাবি, ফিফার বিচারিক সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। কিন্তু এমইপিদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিফার নিজস্ব সংবিধান ও নৈতিকতা বিধিমালাই সদস্য দেশগুলোর তদন্ত দাবি করার অধিকার দেয়। তাই ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে প্রায় ৫০ জন এমইপি ইনফান্তিনো ও ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছিলেন। এবার সেই দাবির সঙ্গে যোগ দিতে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনসহ অন্যদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘শুধু ইনফান্তিনোকে সরালেই হবে না’
মানবাধিকারভিত্তিক প্রচার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ারও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থাটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিকোলাস ম্যাকগিহান বলেন, ইনফান্তিনো স্পষ্টতই ফিফা পরিচালনার যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং তার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা প্রয়োজন। তবে শুধু তাকে সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তার ভাষায়, “যে ব্যবস্থার মাধ্যমে ২০১৬ সালে ইনফান্তিনো ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেটি সংস্কার না করলে ফিফা আবারও একই ধরনের সংকটে পড়বে। এখনই পুরো ব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে ঠিক করার সুযোগ।”
ব্যারি অ্যান্ড্রুজও বলেন, “খেলার সৌন্দর্য নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নিয়মে। কিন্তু রাজনৈতিক চাপের ভিত্তিতে কে খেলবে আর কে খেলবে না—এমন সিদ্ধান্ত হলে সেই ন্যায্যতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।”
ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নীরবতা
ইউরোপজুড়ে তীব্র সমালোচনার বিপরীতে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো কঠোর অবস্থান নেয়নি। যদিও সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টেইন এবং ব্রিটিশ রাজনীতির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন, টেলিগ্রাফ স্পোর্ট জানিয়েছে—সাম্প্রতিক বিতর্কের আগে পর্যন্ত এফএ ইনফান্তিনোর ক্ষমতায় থাকার প্রচেষ্টাকেই সমর্থন করার পরিকল্পনা করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নভেম্বরে ইংল্যান্ডের নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এবং ভবিষ্যতে পুরুষদের বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাব্য বিডে ফিফার সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে বলেই এফএ সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
সম্প্রতি মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয়ের পর ইনফান্তিনো সামাজিক মাধ্যমে এফএ চেয়ারম্যান ডেবি হিউইট-এর সঙ্গে নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে তাকে ‘ইনফান্তিনো’ লেখা একটি ইংল্যান্ডের জার্সি উপহার দিতে দেখা যায়।
তবু, আপাতত বড় সংকট এড়ালেও চাপ বাড়ছেই। বালোগুনকে খেলার সুযোগ দেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। ফলে ইনফান্তিনো আপাতত আরও বড় বিতর্ক এড়াতে সক্ষম হলেও, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর ফিফার এই সিদ্ধান্ত তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে বড় বিদ্রোহের সূচনা করেছে।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।