খেলারদেশ

সেমিফাইনালে স্পেনকে পেলো ফ্রান্স

২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়েছে স্পেন। সুপার সাব মিকেল মেরিনো দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেন। ১৬ জুলাই প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে স্পেন ও ফ্রান্স।

সেমিফাইনালে স্পেনকে পেলো ফ্রান্স

সুপার সাব মিকেল মেরিনোকে ঘিরে স্পেন দলের উল্লাস

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

ফুটবল বিধাতা বলে অলক্ষ্যে কেউ যদি থাকে, তাহলে স্পেন-বেলজিয়াম কোয়ার্টার ফাইনালের ভাগ্য আসলে লিখে দিয়েছেন ম্যাচের ৭১ মিনিটে। নাহলে কেন বাধ্য হয়ে বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়ার থিবো কর্তোয়াকে তুলে নিতে হবে! ফুটবলের বড় মঞ্চ মানেই তো গ্লাভস হাতে থিবো কর্তোয়া নামের পাহাড়টা প্রতিপক্ষের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো, স্পেনকেও বারবার রুখে দিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু চোটের কাছে হার মেনে মাঠ ছাড়তে হয় কর্তোয়াকে। যখন মাঠ থেকে উঠে যাচ্ছিলেন, দুচোখ জুড়ে অশ্রু। তাঁর মন জানতো, এই হয়ত শেষ!

ম্যাচে একটা ভুল করেছিলেন কর্তোয়া, তখন ৩০তম মিনিট চলে। নদীর ঢেউয়ের মতন পাসের পর পাস খেলে আক্রমণ সাজাতে থাকা স্পেন খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলো না। কর্তোয়া অই ভুলটা করার আগে অবশ্য কোনো দলই একটাও অনটার্গেট শট নিতে পারেনি। দানি আলমোর শট সেইভ করলেও বল চলে আসে ফাবিয়ান রুইজের পায়ে। কর্তোয়াকে দারুণভাবে পরাস্ত করেন পেদ্রির বদলে এই ম্যাচে একাদশে আসা রুইজ। পিএসজির মিডফিল্ডার রুইজ পেদ্রির তুলনায় কিছুটা গতিশীল, তাই তাঁকে শুরুর একাদশে রাখেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফেন্তে। কোচের আস্থার প্রতিদান রুইজ দিয়েছেন গোল করে!

থিবো কর্তোয়াকে পরাস্ত করছেন ফাবিয়ান রুইজ

থিবো কর্তোয়াকে পরাস্ত করছেন ফাবিয়ান রুইজ

মাঠে সকল বিভাগেই দাপট দেখায় স্পেন। কিন্তু প্রথাগত স্ট্রাইকার না থাকায় এ ম্যাচেও গোলের দেখা পাচ্ছিলো না। বেলজিয়ামের গোলমুখে প্রথম অনটার্গেট শট নিতেই লাগে ৩০ মিনিট! অবশ্য সেই শটটি থেকেই লা রোহা দল এগিয়ে যায়। খেলার উল্টো ধারাতেই প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে আগে কাউন্টার অ্যাটাকে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। স্পেনের রক্ষণদূর্গ ভাঙেন ডি ব্রুইনা। বর্ষীয়ান এই মিডফিল্ডারের কাছ থেকে ডিফেন্স ভাঙা পাস পেয়ে মনে রাখার মতো একটি ক্রস দেন ফুলব্যাক টিমোথি কাস্টানিয়া। ক্রসটি থেকে হেডারে বল জালে পাঠান চার্লস ডি ক্যাটেলেয়ার। রেকর্ড ছয় ম্যাচ, ৫৬০ মিনিট পর স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমনকে ফাঁকি দিয়ে গোল করেন বেলজিয়ান স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

ইঞ্জুরিতে মাঠ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন বেলজিয়ান নাম্বার ওয়ান থিবো কর্তোয়া

ইঞ্জুরিতে মাঠ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন বেলজিয়ান নাম্বার ওয়ান থিবো কর্তোয়া

দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারাবাহিকতায় পাসের পর পাসের মালা গেঁথে আক্রমণ সাজাতে থাকে স্পেন। বেলজিয়ান রক্ষণ পেরোতে পারলেও কর্তোয়া দেয়ালে গিয়ে লা রোহা দলের সব চেষ্টা থেমে যাচ্ছিলো। ভাগ্যের লিখনে ৭১ মিনিটে চোট নিয়ে কেঁদে কেঁদে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কর্তোয়া। তাঁর জায়গায় নামেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নাম্বার ওয়ান কিপার সেনে ল্যামেন্স।

ল্যামেন্স যে খেলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না, তা মাঠে নামার পরই স্পষ্ট হয়। তবু স্পেনের আক্রমণগুলি ঠেকিয়ে দিচ্ছিলেন। কিন্তু স্পেনের তুরুপের তাস আর সৌভাগ্যের প্রতীক মিকেল মেরিনোর দাপটে বিশ্বকাপে নিজের অভিষেকটা ভুলে যাবার মতো হয়েছে ল্যামেন্সের; অই যে, একদিকে হাসি থাকলে আরেক দিকে কান্না থাকে!

শেষ ১৬-তে পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি নেমে জয়সূচক গোল করেছিলেন আর্সেনাল ও স্পেনের লাকি চার্ম মিকেল মেরিনো। এবারও সেই একই চিত্রনাট্য! দর্শকরা যখন ভাবছিলো ম্যাচ নিশ্চিত অতিরিক্ত সময়ে যাচ্ছে, তখনই দানি ওলমোকে উঠিয়ে ৮৬ মিনিটে সুপার সাব মেরিনোকে নামান কোচ লুইস দে লা ফেন্তে। মাঠে নামার দুই মিনিটের মধ্যে নির্ধারিত সময়েই স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন ফলস নাইন স্ট্রাইকার হিসাবে খেলা এই মিডফিল্ডার। গত মৌসুমে আর্সেনালের লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে দারুণ অবদান ছিলো এই ফলস নাইন সুপার সাবের। স্পেনের জার্সিতেও ঠিক একই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। মিকেল মেরিনোর মাঠে নামা মানেই কোনো না কোনোভাবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করা গোলটি পেয়ে যাওয়া! বেলজিয়ামের বিপক্ষে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালেও সেই লাকি চার্মই জয়ের নায়ক। ৮৮ মিনিটে লস এঞ্জেলস স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে দেন মেরিনো। পাউ কুবারাসির শট ঠিকমতো হাতে জড়াতে পারেননি ২৪ বছর বয়সী ল্যামেন্স, তাঁর হাত ফসকে আসা বলটাকে জালে পাঠাতে একটুও ভুল হয়নি মেরিনোর। তাতেই ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে চলে যায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন।

মিকেল মেরিনোর জয়সূচক গোলের মুহূর্ত

মিকেল মেরিনোর জয়সূচক গোলের মুহূর্ত

বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্পেনের এটি দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। শেষবার ২০১০ আসরে যখন তারা শেষ চারে উঠেছিলো, চ্যাম্পিয়ন হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিলো। এবার অবশ্য শেষ চারেই ফাইনালের স্বাদ পেয়ে যাবে স্পেন। ১৬ জুলাই যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স!

বেলজিয়ামের ইনজুরি দুর্ভাগ্য হোক বা সুপার সাব মিকেল মেরিনো ভাগ্যে, যোগ্য দল হিসাবেই কোয়ার্টার ফাইনাল জিতেছে স্পেন। ৬৮% বল দখলে রাখা ছাড়াও, দলটির সফল পাস দিয়েছে ৯১ শতাংশ। গোলের জন্য ১৮টি শট নিয়েছে, যার ৮টি অনটার্গেট, অন্য দিকে পুরো ম্যাচে বেলজিয়ামের অনটার্গেট শট মাত্র দুটি।

ইডেন হ্যাজার্ড আগেই খেলা ছেড়েছেন। আর এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হলো রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনা, এক্সেল উইটসেল, থিবো কর্তোয়াদের বেলজিয়ান সোনালি প্রজন্মের বিশ্বকাপ ইতিহাস।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।