খেলারদেশ

বিদায়, দিদিয়ের দেশম

এবারের বিশ্বকাপ শেষে আর ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বে থাকছেন না বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও কোচ দিদিয়ের দেশম, ফরাসি ফুটবলে শুরু হবে জিনেদিন জিদান যুগ।

বিদায়, দিদিয়ের দেশম

বিশ্বকাপ শেষে ফ্রান্সের কোচ হিসাবে ১৪ বছরের যাত্রা শেষ হবে দেশমের

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

খেলোয়াড়ি জীবনে দিদিয়ের দেশম ছিলেন মিডফিল্ডার। ফুটবল কোচিংয়ে না এলেও তিনি ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তী হয়েই থাকতেন। ১৯৯৮ সালে, ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ও অধিনায়ক ছিলেন দেশম, তাঁর হাতেই উঠেছিল বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি। অধিনায়ক ছিলেন দুই বছর পর ইউরো জেতা দলেও। কোচিংয়ে এসে, ফ্রান্স জাতীয় দলে ১৪ বছরের গৌরবময় দায়িত্ব শেষে ফুটবলে নিজের অবিনশ্বর লিগ্যাসি আরও ব্যাপকভাবে রেখে যাচ্ছেন ৫৭ বছর বয়সী ফরাসি ফুটবলের মহানায়ক।

আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, এবার বিশ্বকাপ শেষে ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। অনেক তো হলো, ১৪ বছর! এই ১৪ বছরে কত কী দিয়েছেন ফরাসি ফুটবলকে! ২০১২ সালে যখন দায়িত্ব নেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলটার ত্রাহিরাহি অবস্থা। ২০১০ সালে ফ্রান্স দলের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ চলাকালে নিকোলাস আনলেকাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন কোচের বিপক্ষে বিদ্রোহ করেছিলো। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয় সেবার, এরপরও খেলোয়াড়দের মধ্যে কোন্দল থামছিলো না। সব ঠিক করতে ফ্রান্স ফুটবল দিদিয়ের দেশমের দ্বারস্থ হয়। তিনি হৃদয় ও দু'হাত পেতে সেই দায়িত্ব বুঝে নেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পেরোতে না পারলেও দেশমের ওপর আস্থা রেখেছিল ফ্রান্সের ফুটবল কর্মকর্তারা। ২০১৬-তে দেশের মাটিতে ইউরো ফাইনালে হারের বেদনা সইতে হয়েছে। এর মধ্যেই আতোঁয়ান গ্রিজমান, উগো লরিস, পল পগবা, এনগোলো কন্তেকে নিয়ে দারুণ একটা দল গড়ে তুলেছিলেন। সাথে কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তরুণ প্রতিভাকে জাতীয় দলে বিরাট পারফরমার বানিয়েছেন। যার ফলাফল আসে ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে।

ব্রাজিলের মারিও জাগালো ও জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের পর খেলোয়াড় ও কোচের ভূমিকায় বিশ্বকাপ জয়ী তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে যান দেশম। তাঁর অধীনে এরপর ২০২১ সালে উয়েফা নেশন্স লিগেও চ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স। গত বিশ্বকাপে ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হতে হতে ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কারছে হেরে যায়। যে কারণে খেলোয়াড় হিসাবে একবার ও কোচ হিসাবে দুবার বিশ্বকাপ জয়ের একমাত্র মালিক হতে পারেননি। এবারও সেই রেকর্ড গড়ার সুযোগ ছিলো, কিন্তু স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হারায় সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলো।

আগামী শনিবার বিশ্বকাপের তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দেশমকে শেষবার ফ্রান্সের ডাগআউটে দেখা যাবে

আগামী শনিবার বিশ্বকাপের তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দেশমকে শেষবার ফ্রান্সের ডাগআউটে দেখা যাবে

ফ্রান্সের কোচ হয়ে ১৪ বছরে অনেক রেকর্ডই করেছেন দেশম। কোচ হিসাবে তাঁর সাফল্য ঈর্ষণীয়। ১৮ জুলাই বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শেষবার ফ্রান্সের ডাগআউটে থাকবেন তিনি। এই ম্যাচটির আগ পর্যন্ত তিনি ১৮৩ আন্তর্জাতিক ম্যাচে কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে তাঁর দল ১২০ ম্যাচে জয় পেয়েছে। ড্র করেছে ৩৫টি ও হেরেছে ২৯ ম্যাচে। বিশ্বকাপে কোচ হিসাবে দেশমের রেকর্ড ঈর্ষণীয়। বিশ্বকাপে কোচ হিসাবে সবচেয়ে বেশি ২৬টি ম্যাচে ছিলেন, আরও একটি যোগ হবে। তিনি পেছনে ফেলেছেন জার্মানির কিংবদন্তী কোচ হেলমুট স্কোনকে, যিনি ২৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচে জার্মানির ডাগআউটে ছিলেন। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২০টি ম্যাচজয়ী কোচও দেশম। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচেও তাঁর চেয়ে বেশি ম্যাচ কোনো কোচ জিততে পারেননি। নকআউটে দেশমের অধীনে ফ্রান্স ১০টি ম্যাচ জিতেছে।

সব মিলিয়ে অত্যন্ত সফল একজন কোচ হিসাবেই ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে দিদিয়ের দেশমের নাম উচ্চারিত হবে। তাঁর ছেড়ে যাওয়া জায়গা নিতে যাচ্ছেন আরেক কিংবদন্তী জিনেদিন জিদান। সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন, ক্লাবে কোচিং ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় জিজুর অধীনে প্রতিভাবান ফুটবলারে ভরা ফ্রান্স কেমন করে!

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।