ফিফা তদন্ত
বড় শাস্তির মুখে পারেদেস
বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারির পর বড় শাস্তির মুখে পারেদেস, তদন্ত শুরু করেছে ফিফা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আর্জেন্টিনার হতাশা আরও বেড়েছে। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ফিফা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে, আর সেই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি শিরোপা উদযাপন করার সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা তাকে আঘাত করেন। এরপরই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও মাঠে নেমে নিজের খেলোয়াড়দের শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

পারেদেসের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
সংঘর্ষের সময় পারেদেসকে স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলায় আঘাত করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর তিনি স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন বলেও বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে। ঘটনার জেরে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ পারেদেসকে লাল কার্ড দেখান।

কী শাস্তি হতে পারে?
ESPN ও TyC Sports-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি রেফারির রিপোর্ট এবং বিভিন্ন কোণ থেকে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে পারেদেস ইচ্ছাকৃতভাবে সহিংস আচরণ করেছেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড অনুযায়ী, সহিংস আচরণের জন্য ন্যূনতম তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে অপরাধের মাত্রা গুরুতর বিবেচিত হলে শাস্তি আরও বাড়তে পারে। যে নিষেধাজ্ঞাই দেওয়া হোক না কেন, তা আর্জেন্টিনার পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে কার্যকর হবে।
শুধু পারেদেস নন, তদন্তে আরও অনেকে
ফিফা শুধু পারেদেসের ঘটনাই নয়, পুরো আর্জেন্টিনা দলের ম্যাচ-পরবর্তী আচরণও তদন্ত করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ ফাবিয়ান আয়ালার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে তাকে স্পেনের দানি ওলমোকে আঘাত এবং এরিক গার্সিয়াকে ধাক্কা দিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া রদ্রিকে আঘাত করার অভিযোগে নাহুয়েল মোলিনার ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ফিফার স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি এখন যাচাই করছে, এসব ঘটনা পরিকল্পিত ছিল নাকি ম্যাচের তীব্র উত্তেজনার ফল।

আগের বিতর্কও বিবেচনায়
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর আর্জেন্টিনার কিছু খেলোয়াড় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ-সংক্রান্ত একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। সেই ঘটনাও ফিফার নজরে ছিল। ফলে, শৃঙ্খলাভঙ্গের পুনরাবৃত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার ফিফা আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত ফিফা কোনো শাস্তি ঘোষণা করেনি। তদন্ত শেষ হওয়ার পর ডিসিপ্লিনারি কমিটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে। ফলে, পারেদেসের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বা আরও বড় শাস্তির বিষয়টি এখনও সম্ভাব্য, চূড়ান্ত নয়।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।