খেলারদেশ

ফিফা

ইনফান্তিনোর বিদায়ঘণ্টা বাজছে? বিকল্প কারা?

ফিফার পরবর্তী সভাপতি হওয়ার দৌড়ে কারা এগিয়ে?

ইনফান্তিনোর বিদায়ঘণ্টা বাজছে? বিকল্প কারা?

ইনফান্তিনোর বিদায়ঘণ্টা বাজছে?

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও সবকিছু ছিল জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নিয়ন্ত্রণে। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ দিকে ব্যক্তিগত বিমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে স্পেনের অধিনায়কের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেওয়ার মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, ফিফার ক্ষমতার কেন্দ্রে তিনিই অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

কিন্তু সময় বদলেছে দ্রুত। বিশ্বকাপ ও অন্যান্য ফিফা টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা প্রত্যাহারের পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এখন বড় প্রশ্নের মুখে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দিয়েছে। তাদের অবস্থানকে সমর্থন করেছে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। তিন সংস্থাই ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি ও নেতৃত্ব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে।

এএফসি এক বিবৃতিতে বলেছে, "এটা শুধু একটা প্রস্তাবের বিষয় নয়। এটা ফিফার পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মৌলিক দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।"

এদিকে ইনফান্তিনোর বিশেষ উপদেষ্টা এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে হোয়াইট হাউস টাস্কফোর্সের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করেছেন। ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরও স্বীকার করেছেন, এই প্রকল্প নিয়ে ফিফার প্রশাসনও বিভ্রান্ত হয়েছিল।

তবুও কি পদ ছাড়বেন ইনফান্তিনো? বাস্তবতা হলো, ইনফান্তিনোর বিদায় এখনই নিশ্চিত নয়। সাবেক ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টেইনের মতে, সাধারণ কোনো প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনার পর প্রধান নির্বাহীকে বিদায় নিতে হতো। কিন্তু ফিফা সেই ধরনের প্রতিষ্ঠান নয়। সদস্য দেশগুলোর সমর্থন থাকলে ইনফান্তিনো টিকে যেতে পারেন।

ফিফার সাবেক সহ-সভাপতি জিম বয়েসও মনে করেন, আগামী মার্চের নির্বাচনে ইনফান্তিনো এখনও পর্যাপ্ত সমর্থন পেতে পারেন। যদিও বর্তমান সংকট আরও গভীর হলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ইনফান্তিনো দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ফিফাকে নতুনভাবে গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর তিনি দুইবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হন। আগামী মার্চেও একই দৃশ্য দেখা যাবে বলে ধারণা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সংকটের পর অন্তত একটি উয়েফা সদস্য দেশ ইতোমধ্যে তার সমর্থনের চিঠি প্রত্যাহার করেছে।

ইনফান্তিনোর উত্তরসূরি হতে পারেন যারা

ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি (কনকাকাফ সভাপতি)

ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি (কনকাকাফ সভাপতি)

ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি (কনকাকাফ সভাপতি) : কানাডিয়ান ফুটবল প্রশাসক ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি ২০১৬ সালে কনকাকাফের সভাপতি নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ফরাসি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও ইংরেজিতে সাবলীল মন্টাগ্লিয়ানি আন্তর্জাতিক ফুটবল রাজনীতিতে দক্ষ হিসেবে পরিচিত। তিনি ৬৪ দলের বিশ্বকাপের ধারণার বিরোধিতা করেছেন এবং প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাবও সমর্থন করেননি। অনেকের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনিই সবচেয়ে শক্তিশালী বিকল্প।

শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা (এএফসি সভাপতি): বাহরাইনের শেখ সালমান ২০১৩ সাল থেকে এএফসির সভাপতি। তার নেতৃত্বে এশিয়ান ফুটবলে নতুন প্রতিযোগিতা চালু হয়েছে এবং নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগও শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এএফসি। ফলে ৪৬ সদস্যের সমর্থন নিয়ে শেখ সালমান যদি প্রার্থী হন, তাহলে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন।

নাসের আল-খেলাইফি (পিএসজি সভাপতি): পিএসজি সভাপতি এবং ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবস (ইএফসি)-এর চেয়ারম্যান নাসের আল-খেলাইফি ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। ইউরোপিয়ান সুপার লিগ ভেঙে পড়ার পর তিনি ক্লাবগুলোর মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন সংগঠনে ৮০০-এর বেশি ক্লাব রয়েছে। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, আল-খেলাইফির ফিফা সভাপতির পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো আগ্রহ নেই।

ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম (ফিফা মহাসচিব): ২০২৪ সালে ফিফার মহাসচিব হওয়া ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম গত কয়েক বছরে ইনফান্তিনোর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। বহুভাষী এই সুইডিশ প্রশাসক বিশ্বকাপেও ইনফান্তিনোর সঙ্গে নিয়মিত দেখা গেছে। তবে ইনফান্তিনোর খুব কাছের মানুষ হওয়ায় পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তাকে গ্রহণ করতে অনেকের আপত্তি থাকতে পারে। এছাড়া ফিফার পরবর্তী সভাপতি ইউরোপের বাইরে থেকে আসা উচিত—এমন মতও ফুটবল রাজনীতিতে জোরালো হচ্ছে।

নাসের আল-খেলাইফি (পিএসজি সভাপতি)

নাসের আল-খেলাইফি (পিএসজি সভাপতি)

ফিফার ৭৭তম কংগ্রেস আগামী মার্চে মরক্কোতে অনুষ্ঠিত হবে। সভাপতির পদে প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর। বর্তমান সংকট আরও গভীর হলে সেই নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে একাধিক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী দেখা যেতে পারে। তবে সদস্য দেশগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে পারলে তিনি টানা চতুর্থ মেয়াদও নিশ্চিত করতে পারেন।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।