খেলারদেশ

গ্রীসের ফুটবলে আবারও ফিরছে রূপকথার গল্প!

একসময় ইউরোপীয় ফুটবলে গ্রিসের নাম মানেই ছিল অপ্রত্যাশিত কিছু করে দেখানোর গল্প। ২০০৪ ইউরোতে পুরো ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই রূপকথা কিংবা ২০১৪ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় ওঠার স্মৃতি এখন অনেক দূরের। এরপর কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। বিশ্বকাপেও আর দেখা যায়নি গ্রিসকে।

গ্রীসের ফুটবলে আবারও ফিরছে রূপকথার গল্প!

সম্প্রতি জার্মানি জাতীয় দলকে হারিয়েছে গ্রীস

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

একসময় ইউরোপীয় ফুটবলে গ্রিসের নাম মানেই ছিল অপ্রত্যাশিত কিছু করে দেখানোর গল্প। ২০০৪ ইউরোতে পুরো ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই রূপকথা কিংবা ২০১৪ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় ওঠার স্মৃতি এখন অনেক দূরের। এরপর কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। বিশ্বকাপেও আর দেখা যায়নি গ্রিসকে।

তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর গ্রিক ফুটবলে যেন আবারও নতুন গল্প লেখার আভাস মিলছে। উয়েফা নেশন্স লিগে শক্তিশালী তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সেই বিশ্বাসটাকেই আরও শক্ত করছে গ্রিস।

শুরুটা সার্বিয়ার বিপক্ষে ২-১ জয় দিয়ে। এরপর জার্মানির মাঠে গিয়ে জার্মানিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। আর সর্বশেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ ড্র। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এ২-এর শীর্ষে এখন গ্রিস।

বিশেষ করে জার্মানির বিপক্ষে জয়টি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। জার্মানির দখলে বল থাকলেও গ্রিসের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধে দিমিত্রিস কুরবেলিসের গোলে জয় নিশ্চিত করে গ্রিস। ম্যাচে গোলরক্ষক কোস্তাস জোলাকিসকে বড় ভূমিকা রাখতে হয়েছে। তিনি পাঁচটি শট ঠেকিয়ে জার্মানিকে গোলবঞ্চিত রাখেন।

এরপর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে গ্রিস। ফোটিস ইয়োনিদিস ও জর্জিওস মাসুরাসের গোলে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে ভির্জিল ফন ডাইক ও তিজানি রেইনডার্সের গোলে সমতায় ফেরে নেদারল্যান্ডস। শেষ পর্যন্ত ২-২ ড্র হলেও প্রথম ৪৫ মিনিটে গ্রিসের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।

এই সাফল্যের পেছনে শুধু অভিজ্ঞ কয়েকজন খেলোয়াড়ের অবদান নয়, সামনে আসছে একদল প্রতিভাবান তরুণও। ১৮ বছর বয়সী কনস্তান্তিনোস কারেতস এরই মধ্যে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দিয়েছেন। বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গ্রিসের নতুন প্রজন্মের অন্যতম আলোচিত নাম।

জোলাকিসও সেই প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক জাতীয় দলের সাম্প্রতিক তিন ম্যাচেই গোলপোস্টের নিচে ছিলেন। সার্বিয়ার বিপক্ষে চারটি, জার্মানির বিপক্ষে পাঁচটি এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাঁচটি শট ঠেকিয়ে তিন ম্যাচেই দলের ফলাফলে বড় অবদান রেখেছেন।

তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞতার মিশ্রণটাও গ্রিসের বড় শক্তি। ফোটিস ইয়োনিদিস, ভানগেলিস পাভলিদিস, আনাস্তাসিওস দুভিকাস, কস্তাস সিমিকাস ও কনস্তান্তিনোস মাভ্রোপানোসের মতো খেলোয়াড়রা দলটিকে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য দিচ্ছেন। ফলে গ্রিসের নতুন দলটি শুধু একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং একাধিক পজিশনে প্রতিভা তৈরি হচ্ছে।

জার্মানির কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপও ম্যাচের আগে গ্রিসের বর্তমান প্রজন্মের প্রশংসা করেছিলেন। তরুণ কারেতস ও ইয়ানিস কনস্তান্তেলিয়াসের মতো খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দলের সামগ্রিক মান, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমী মানসিকতা নজর কেড়েছে তাঁর।

২০০৪ সালে ফাইনালে পর্তুগালকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলো গ্রীস

২০০৪ সালে ফাইনালে পর্তুগালকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলো গ্রীস

তবে এই দলকে এখনই ২০০৪ সালের সেই রূপকথার সঙ্গে তুলনা করার সময় আসেনি। গ্রিস সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলেছিল। এরপর ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা হয়নি তাদের। অর্থাৎ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে এখনও। তবু পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। শক্তিশালী সার্বিয়া, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচে হারেনি গ্রিস। সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থাকা দলটির সবচেয়ে বড় আশার জায়গা হলো, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশে একঝাঁক তরুণও নিজেদের সামর্থ্য দেখাচ্ছে।

২০০৪-এর সেই অবিশ্বাস্য গল্পের পুনরাবৃত্তি হবে কি না, সেটি সময়ই বলবে। তবে আপাতত গ্রিক ফুটবলে অন্তত হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাসটা ফিরছে। আর সেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আছে বর্তমানের শক্তি, ভবিষ্যতের প্রতিভা এবং অনেক দিন পর আবার বড় মঞ্চে ফেরার স্বপ্ন।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

সম্পর্কিত আরও খবর

এই বিভাগের সব খবর →

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।