খেলারদেশ

হামজা চৌধুরী

ডার্বি কাউন্টির পথে হামজা চৌধুরী

হামজা চৌধুরী লেস্টার সিটি ছেড়ে ডার্বি কাউন্টিতে যোগ দেয়া নিয়ে ডার্বি কোচের কথায় বাড়ল জল্পনা

ডার্বি কাউন্টির পথে হামজা চৌধুরী

হামজা চৌধুরী

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

লেস্টার সিটি ছাড়ার পথে হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডারকে দলে নিতে চায় ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ডার্বি কাউন্টি। এমনকি হামজাকে নিয়ে লেস্টারের কাছে প্রস্তাবও দিয়েছে ডার্বি। দলবদলের শেষ মুহূর্তে এসে দুই পক্ষের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত এসেছে ডার্বির কোচ জন ইউস্টেসের কাছ থেকে। হামজার নাম সরাসরি নিশ্চিত না করলেও তার কথায় বোঝা যাচ্ছে, নতুন একজন খেলোয়াড়কে খুব দ্রুত দলে আনার চেষ্টা করছে ডার্বি।

Image

“আশা করছি, সপ্তাহান্তের আগেই একজন খেলোয়াড়কে দলে আনতে পারব। তা হলে দারুণ হবে।” এরপর হামজার প্রসঙ্গ উঠলে ইউস্টেস বলেন, “চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে প্রিমিয়ার লিগে ওঠার অভিজ্ঞতা আছে এবং চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন যে কোনো খেলোয়াড়ই আমাদের দলে সাহায্য করবে।”

ডার্বির আগ্রহ অবশ্য নতুন না। ২৫ আগস্ট থেকেই হামজাকে নিয়ে ডার্বির তৎপরতার খবর সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্লাবটি হামজাকে স্থায়ীভাবে দলে নিতে আগ্রহী। তবে সেই চুক্তি স্থায়ী নাকি অন্য কোনো কাঠামোয় হবে, সে বিষয়ে তখনও পরিষ্কার সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। লেস্টারও হামজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আগ্রহী ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। কোচ রাসেল মার্টিন প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, হামজাকে নিয়ে ‘অনেক ক্লাবের আগ্রহ’ রয়েছে।

তবে ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে কারাবাও কাপের ম্যাচেও হামজাকে স্কোয়াডে রাখা হয়নি। ম্যাচটি লেস্টার ৩-১ গোলে হারে। হামজাকে বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্টিন বলেন, দলবদলের আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ দলবদলের আলোচনা চললে ম্যাচে একজন খেলোয়াড়ের পুরো মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন বলে মন্তব্য করেন মার্টিন।

অবশ্য অনুশীলনে হামজা কোনো সমস্যা তৈরি করছেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি, “হামজা, ওয়াউট, কুলি ও স্টিফির মতোই অনেক দলের আগ্রহের মধ্যে আছে। এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। যদি সে থেকে যায়, ভালো। আর যদি না থাকে, তাহলে সেটাও তার এবং আমাদের জন্য ভালো একটা চুক্তি হতে পারে।” হামজার প্রশংসাও করেছেন লেস্টার কোচ, “এনার্জির কথা বলতে গেলে হামজা দুর্দান্ত মানুষ, টপ গাই।”

Image

লেস্টারের দিক থেকেও হামজাকে ছেড়ে দেওয়ার যুক্তি রয়েছে। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। ফলে এখন তাকে বিক্রি করতে পারলে লেস্টার একদিকে স্কোয়াড ও বেতন কাঠামোর চাপ কমাতে পারবে, অন্যদিকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ট্রান্সফার ফি পাওয়ার সুযোগও থাকবে। তার সাপ্তাহিক বেতন প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড। চুক্তির মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বলে বিভিন্ন খেলোয়াড়-তথ্যভিত্তিক সূত্র জানিয়েছে।

লেস্টারে বর্তমান মৌসুমেও হামজার অবস্থান খুব একটা স্বস্তিদায়ক না। লিগ ওয়ানে নেমে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত তিনি কোনো ম্যাচে শুরু থেকে খেলেননি। তিনবার বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন। ফলে নিয়মিত খেলার সুযোগের দিক থেকেও ডার্বির সম্ভাব্য প্রস্তাব তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শেফিল্ড ইউনাইটেডে লোনে হামজা (২০২৫)

শেফিল্ড ইউনাইটেডে লোনে হামজা (২০২৫)

হামজার জন্য চ্যাম্পিয়নশিপ অবশ্য পরিচিত মঞ্চ। লেস্টারের হয়ে এই স্তরে খেলার পাশাপাশি শেফিল্ড ইউনাইটেডে লোনে খেলেছেন তিনি। গত মৌসুমের শেষার্ধে শেফিল্ড ইউনাইটেডে তিনি ১৬ ম্যাচে প্রথম একাদশে থাকাসহ মোট ১৯ ম্যাচ খেলেছেন। এর আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে লোনে খেলেছেন চ্যাম্পিয়নশিপ দল ওয়ার্ডফোর্ডে। গত মৌসুমেও চ্যাম্পিয়নশিপে লেস্টারের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে ছিলেন। ফলে ডার্বিতে গেলে ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরে মানিয়ে নিতে তার জন্য বড় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না।

ডার্বির মাঝমাঠে অবশ্য প্রতিযোগিতা রয়েছে। লুইস ট্র্যাভিস ও অ্যালেক্স মোয়াটের মতো খেলোয়াড় রয়েছেন দলটিতে। তাই হামজা গেলেই একাদশে জায়গা নিশ্চিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডে খেলার দক্ষতা এবং প্রয়োজনে রাইট-ব্যাক হিসেবে খেলতে পারার সামর্থ্য তাকে ডার্বির জন্য কার্যকর বিকল্প করে তুলেছে।

এফএ কাপজয়ী হামজা চৌধুরী

এফএ কাপজয়ী হামজা চৌধুরী

লেস্টারের সঙ্গে হামজার সম্পর্ক অবশ্য দীর্ঘদিনের। মাত্র সাত বছর বয়সে ক্লাবটির একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকে উঠে এসে ২০১৭ সালে মূল দলে অভিষেক। এখন পর্যন্ত লেস্টারের হয়ে ১৬৬টি সিনিয়র ম্যাচ খেলেছেন। এ সময়ে এফএ কাপ, কমিউনিটি শিল্ড ও চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপাও জিতেছেন।

বাংলাদেশের হয়েও হামজার গুরুত্ব আলাদা। ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলে খেলার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বেছে নেন তিনি। মাঝমাঠে তার শারীরিক সক্ষমতা, বল জয়ের দক্ষতা ও কাজের পরিধি বাংলাদেশের জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠেছে। ডার্বিতে যোগ দিলে তাই শুধু হামজার ক্লাব ক্যারিয়ারেই নয়, বাংলাদেশের জাতীয় দলেও এর প্রভাব পড়তে পারে। নিয়মিত চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল খেলার সুযোগ পেলে ম্যাচ ফিটনেস ও ছন্দ ধরে রাখার ক্ষেত্রে তা বড় সুবিধা হবে।

Image

তবে এখনো হামজার ডার্বিতে যোগ দেওয়া চূড়ান্ত হয়নি। ডার্বি প্রস্তাব দিয়েছে, লেস্টার তার প্রতি আগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে এবং ডার্বি কোচও সম্ভাব্য নতুন খেলোয়াড় আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা ঘোষণা এখনো আসেনি। তবে চুক্তি সম্পন্ন হলে হামজা চৌধুরীর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ মিলিয়ন পাউন্ড হলেও, ডার্বির প্রস্তাব হতে পারে ৬ মিলিয়ন পাউন্ড + এড-অনস।

১ সেপ্টেম্বর দলবদলের জানালা বন্ধ হওয়ার আগে তাই শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার সম্ভাবনা থাকছেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বিষয় পরিষ্কার, লেস্টারে হামজার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, আর ডার্বি কাউন্টি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে বেশ সক্রিয়। সব মিলিয়ে প্রশ্ন এখন, লেস্টারে থেকে নতুন করে জায়গা করে নেবেন হামজা, নাকি শৈশবের ক্লাব ছেড়ে ডার্বিতে গিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করবেন?

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

সম্পর্কিত আরও খবর

এই বিভাগের সব খবর →

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।