রিয়াল মাদ্রিদ
মাদ্রিদ-বেতিসের রেফারি বার্সেলোনা ভক্ত
‘বার্সেলোনা, অবশ্যই,’ ৩২ বছর আগের রেফারির সাক্ষাৎকার খুঁজে আনল রিয়াল মাদ্রিদ টিভি

মাদ্রিদ-বেতিসের রেফারি বার্সেলোনা ভক্ত
রিয়াল মাদ্রিদ ও হার্নান্দেস হার্নান্দেসের সম্পর্কটা কখনোই খুব একটা উষ্ণ ছিল না। প্রায় এক দশক ধরে এই স্প্যানিশ রেফারিকে ঘিরে মাদ্রিদ সমর্থকদের অসন্তোষ রয়েছে। শুক্রবার রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের পর সেই বিতর্ক যেন আবারও নতুন করে সামনে এসেছে।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের একটা গোল বাতিল হয়। এরপর পেনাল্টি নিয়ে তৈরি হয় আরও বড় নাটক। সব মিলিয়ে রেফারিং নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল রিয়াল শিবির। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ টিভি। তাদের আর্কাইভ ঘেঁটে বের করে আনা হয় হার্নান্দেস হার্নান্দেসের ১৯৯৪ সালের একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার। তখন তার বয়স মাত্র ১২ বছর।


সেই সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি কোন ক্লাবকে সমর্থন করেন। উত্তরে তরুণ হার্নান্দেস বলেছিলেন, “বার্সেলোনা, অবশ্যই।”
৩২ বছর আগের সেই বক্তব্যই এবার সামনে এনেছে রিয়াল মাদ্রিদ টিভি। এর মাধ্যমে ম্যাচে তার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে পুরোনো সেই সমর্থনের সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ক্লাবটির নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেল।
রিয়াল মাদ্রিদ টিভির দাবি, বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচে হার্নান্দেস হার্নান্দেসের একাধিক সিদ্ধান্ত রিয়ালের বিপক্ষে গেছে। প্রথম উদাহরণ হিসেবে তারা তুলে ধরেছে ফেদে ভালভার্দেকে করা কুচো হার্নান্দেসের ফাউলটি। রিয়াল মাদ্রিদ টিভির মতে, ওই ঘটনায় অন্তত হলুদ কার্ড দেখানো উচিত ছিল। কিন্তু রেফারি কোনো কার্ড দেখাননি।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ওপর হেক্টর বেয়েরিনের কয়েকটি ফাউলের ঘটনাও তুলে ধরে রিয়াল মাদ্রিদ টিভি। তাদের অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেফারি। জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে হওয়া আরেকটি চ্যালেঞ্জ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। রিয়াল মাদ্রিদের দৃষ্টিতে সেটি ফাউল হলেও হার্নান্দেস হার্নান্দেস সেটিকে বৈধ বলেই বিবেচনা করেন।

সবশেষে আসে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টির ঘটনা। রিয়াল মাদ্রিদের দাবি, পেনাল্টি নেওয়ার সময় বেতিসের কয়েকজন খেলোয়াড় বক্সে ঢুকে পড়লেও এমবাপ্পেকে পেনাল্টি আবার নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এসব সিদ্ধান্তকে সামনে এনে রিয়াল মাদ্রিদ টিভি ম্যাচের রেফারিং নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। পুরোনো সাক্ষাৎকারটিও সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে ম্যাচের ফল নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের নিজেদেরও কিছুটা দায় আছে। রেফারিং নিয়ে যত অভিযোগই থাকুক, গোল করার একাধিক সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি তারা। এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুসসহ রিয়ালের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের গল্পটা হয়তো অন্যরকম হতে পারত।
তাই রেফারিং নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদের সামনে এখন নিজেদের ভুলগুলোও খতিয়ে দেখার পালা। কারণ হার্নান্দেস হার্নান্দেসের ১৯৯৪ সালের সেই ‘বার্সেলোনা, অবশ্যই’ উত্তর যতই আলোচনায় আসুক, শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে হলে নিজেদের সুযোগগুলো কাজে লাগানোর বিকল্প নেই।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।
সম্পর্কিত আরও খবর
ক্লাব ফুটবলমেসির রেকর্ড ভাঙলেন ‘মাস্তানতুয়োনো’
ক্লাব ফুটবলবায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জয়
ক্লাব ফুটবলঅভিষেকেই কোমোর বড় জয়
ক্লাব ফুটবলমেসি-লেওয়ানডফস্কির ম্যাচে নেই জয় পরাজয়
ক্লাব ফুটবলবার্সেলোনার গোলবন্যায় বিধ্বস্ত ফেইনুর্দ
ক্লাব ফুটবল


মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।