খেলারদেশ

ভিনিসিয়ুসকে ছাড়াই ভালো রিয়াল মাদ্রিদ?

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ছাড়াই সেভিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্নাব্যুতে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, আরদা গুলারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং ইয়ান দিয়োমান্দের ঝলমলে ফিনিশিংয়ে বেশ স্বস্তির ছিল জয়টি। তবে এই জয়ের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ভিনিসিয়ুসকে ছাড়া কি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলছে রিয়াল?

ভিনিসিয়ুসকে ছাড়াই ভালো রিয়াল মাদ্রিদ?

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ফাইল ছবি

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ছাড়াই সেভিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্নাব্যুতে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, আরদা গুলারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং ইয়ান দিয়োমান্দের ঝলমলে ফিনিশিংয়ে বেশ স্বস্তির ছিল জয়টি। তবে এই জয়ের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ভিনিসিয়ুসকে ছাড়া কি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলছে রিয়াল? প্রশ্নটি ওঠার কারণও আছে। গত সপ্তাহে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে নাথান সালিবার চুল টানার ঘটনায় লাল কার্ড দেখেছিলেন ভিনিসিয়ুস। চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রথম। আগামী রোববার বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোতেও খেলতে পারবেন না ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে ভিনিসিয়ুসকে ছাড়া রিয়াল ভালো খেলছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অবশ্য তাড়াহুড়া হবে। তবে সেভিয়ার বিপক্ষে দলের আক্রমণে যে বৈচিত্র্য দেখা গেছে, তা কোচ হোসে মরিনিয়োর জন্য আশাব্যঞ্জক।

ভিনিসিয়ুস সাধারণত বাঁ প্রান্ত দিয়ে গতি ও ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করেন। কিন্তু এমবাপ্পেও আক্রমণের বাঁ দিক থেকে খেলতে পছন্দ করেন। ফলে দুজনের একই জায়গায় খেলার প্রবণতা রিয়ালের আক্রমণে কখনো কখনো সমস্যা তৈরি করেছে। সেভিয়ার বিপক্ষে বাঁ প্রান্তে দিয়োমান্দে এবং ডান দিকে এন্দ্রিককে রেখে এমবাপ্পেকে আক্রমণজুড়ে স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়। তাতে ফরাসি তারকাকে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ দেখিয়েছে।

ম্যাচে গুলারের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মাঝমাঠ থেকে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন তুরস্কের এই তরুণ। কখন আক্রমণ দ্রুত করতে হবে, কখন বলের দখল ধরে রাখতে হবে, তা বুঝে খেলেছেন তিনি। টনি ক্রুস অবসরে যাওয়ার পর রিয়ালের খেলায় মাঝেমধ্যে যে সৃজনশীলতার অভাব দেখা গেছে, গুলারের পারফরম্যান্স সেখানে নতুন সম্ভাবনা দেখিয়েছে। এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলটি ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। জুড বেলিংহামের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিং করেন তিনি। বিরতির পর পেনাল্টি থেকে পান নিজের দ্বিতীয় গোল। অন্যদিকে দিয়োমান্দে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য সুযোগও তৈরি করেছেন।

তবে ভিনিসিয়ুসের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বড় ম্যাচে তাঁর গতি, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও গোল করার ক্ষমতা রিয়ালের বড় সম্পদ। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ফর্ম, সমর্থকদের দুয়ো এবং এমবাপ্পের সঙ্গে বোঝাপড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও একটি ম্যাচের জয় দিয়ে সেই বিতর্কের নিষ্পত্তি হবে না।

সেভিয়ার বিপক্ষে জয় রিয়ালকে নতুন কৌশলগত সম্ভাবনা দেখিয়েছে। এখন বার্সেলোনার বিপক্ষে ভিনিসিয়ুসকে ছাড়াই সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আলোচনা আরও জোরালো হবে। আপাতত প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে, রিয়ালের সমস্যা কি ভিনিসিয়ুসের উপস্থিতি, নাকি তাঁকে ঘিরে দলের আক্রমণ সাজানোর পদ্ধতিতে?

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

সম্পর্কিত আরও খবর

এই বিভাগের সব খবর →

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।