ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, রোনালদো জুনিয়র
রোনালদো কি এই মৌসুমেই ছেলের সঙ্গে মাঠে নামবেন?
রোনালদোর ‘লাস্ট ডান্স’? ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ মৌসুমে যে ৭টা কীর্তি গড়তে পারেন ক্রিশ্চিয়ানো

রোনালদো কি এই মৌসুমেই ছেলের সঙ্গে মাঠে নামবেন?
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ দিন গণনা কি শুরু হয়ে গেছে? ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা সম্প্রতি ভোগ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘সম্ভবত এটাই আমার ফুটবলের শেষ বছর। আমি একটা উল্লেখযোগ্য লিগ্যাসি রেখে যেতে চাই।’
২০২৬/২৭ মৌসুম সত্যিই যদি রোনালদোর শেষ মৌসুম হয়, তাহলে অবসরের আগে তার সামনে রয়েছে আরও কিছু ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ।

১. ১,০০০ গোলের মাইলফলক
সবচেয়ে বড় লক্ষ্য নিঃসন্দেহে ১,০০০ ক্যারিয়ার গোল। ২০২৬/২৭ মৌসুম শুরুর সময় ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে রোনালদোর গোলসংখ্যা ৯৭৬। অর্থাৎ চার অঙ্কে পৌঁছাতে প্রয়োজন আর মাত্র ২৪ গোল। সৌদি প্রো লিগে টানা তিন মৌসুম ২৫ বা তার বেশি গোল করার পরিসংখ্যান এবং পর্তুগাল দলের হয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ বিবেচনায় নিলে, শেষ মৌসুমেই ১,০০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছে যাওয়া যথেষ্ট বাস্তবসম্মত।

২. অবশেষে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা
আল-নাসরের হয়ে এশিয়ায় এখনও কোনো মহাদেশীয় শিরোপা জিততে পারেননি রোনালদো। আগের দুই অভিযানে একবার কোয়ার্টার ফাইনালে আল-আইনের কাছে এবং আরেকবার সেমিফাইনালে কাওয়াসাকি ফ্রন্টালের কাছে বিদায় নিতে হয়েছে।
২০২৫/২৬ মৌসুমে সৌদি প্রো লিগ জেতায় এবার সরাসরি ২০২৬/২৭ এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল পর্বে জায়গা পেয়েছে আল-নাসর। ১৫ সেপ্টেম্বর আল-আইনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের অভিযান। ইউরোপ ছাড়ার পর এশিয়ার ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে বড় ট্রফিটি জেতা তাই রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়কে আরও পূর্ণতা দিতে পারে।
৩. আল-নাসরের হয়ে আরও শিরোপা
আল-নাসরে প্রথম তিন বছরে বড় কোনো শিরোপা না জিতলেও ২০২৫/২৬ মৌসুমে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান রোনালদো। ২০ ম্যাচের অপরাজিত দৌড়ের মাধ্যমে সৌদি প্রো লিগের শিরোপা জেতে আল-নাসর। শেষ মৌসুমে লিগ শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি কিংস কাপ কিংবা সৌদি সুপার কাপ জিততে পারলে সৌদি আরবের অধ্যায়টা আরও সাফল্যমণ্ডিত করে শেষ করতে পারবেন রোনালদো।
৪. ছেলের সঙ্গে একই ম্যাচে মাঠে নামা

ইতিহাসের দোরগোড়ায় রোনালদো

রোনালদোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটা হতে পারে ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুনিয়রের সঙ্গে একই মাঠে খেলা। ১৬ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র বর্তমানে আল-নাসরের যুব দলে খেলছেন এবং বাবার মতোই ৭ নম্বর জার্সি পরেন। চলতি মৌসুমে তাকে মূল দলে উন্নীত করার বিষয়টি ক্লাব বিবেচনা করছে বলে খবর রয়েছে। যদি কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে বাবা-ছেলে একই সঙ্গে মাঠে নামেন, সেটা হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য।
কেননা, এটাই হবে ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে পিতাপুত্রের একই দলের হয়ে খেলার ইতিহাস। এর আগে ২০১৫ সালে ব্রাজিলের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব মোজি মিরিমের হয়ে একই ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান তারকা রিভালদো এবং তার ছেলে রিভালদিনিয়ো। শুধু তাই নয়, সেই ম্যাচে বাবা ও ছেলে দুজনেই গোল করেছিলেন। এরকম আরো কিছু উদাহরণ থাকলেও শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগিতায় এই উদাহরণ তৈরির সম্ভাবনা রোনালদোর সামনেই।
৫. পর্তুগালের হয়ে শেষ অধ্যায়টাও স্মরণীয় করা

২০২৬ বিশ্বকাপকে ইতোমধ্যেই নিজের শেষ বিশ্বকাপ বলে নিশ্চিত করেছেন রোনালদো। টুর্নামেন্ট শেষে তার ঝুলিতে যোগ হয়েছে আরও দুইটা ঐতিহাসিক রেকর্ড: ছয়টা ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় এবং ১৪৬ গোল নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে এক ম্যাচে একাধিক গোল করার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। এখন নেশনস লিগ কিংবা প্রীতি ম্যাচে পর্তুগালের হয়ে আরও কয়েকটা ম্যাচ খেললে নিজের আন্তর্জাতিক রেকর্ডগুলো আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন রোনালদো। ঘরের মাঠে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবার মাঠে নামার সুযোগও হতে পারে তার বিদায়ের সুন্দর উপায়।
৬. আল-নাসরের আরও কিছু রেকর্ড নিজের করে নেওয়া
২০২২ সালের ডিসেম্বরে আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর এরই মধ্যে ক্লাবটির হয়ে ১২০-এর বেশি গোল করেছেন রোনালদো। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে চলতি মৌসুমেই ক্লাবটির বেশ কিছু ব্যক্তিগত গোলের রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার। আল-নাসরে তার প্রভাব শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ না। চুক্তির অংশ হিসেবে ক্লাবটির ১৫ শতাংশ মালিকানাও রয়েছে রোনালদোর। তাই ক্যারিয়ারের শেষ মৌসুম শেষে ক্লাবটির ইতিহাসে পরিসংখ্যান ও বাণিজ্যিক—দুই দিক থেকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে তার জন্য যথার্থ বিদায়।

৭. নিজের শর্তেই বিদায় নেওয়া
রোনালদো বরাবরই অবসরের নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা এড়িয়ে গেছেন। এর আগে শুধু জানিয়েছিলেন, অবসর হয়তো ‘আগামী এক বা দুই বছরের মধ্যে’ আসতে পারে। কিন্তু এবার তার বক্তব্যের ধরন অনেক বেশি স্পষ্ট। ভোগ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফুটবলের বাইরের জীবন, প্যাডেল, ভ্রমণ ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে স্বীকার করেছেন, ফুটবল ছেড়ে দিলে জীবনে বড় একটা শূন্যতা তৈরি হতে পারে।
যদি ২০২৬/২৭ মৌসুমই সত্যিই তার শেষ হয়, তাহলে নিজের বিদায়ের সময় ও মঞ্চটাও নিজের মতো করে বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে রোনালদোর হাতে। ২৫ বছর ধরে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার পর ক্যারিয়ারের শেষটাও যদি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজাতে পারেন, তা হবে রোনালদোর মতো কিংবদন্তির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিদায়।

রনক জামান
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।
সম্পর্কিত আরও খবর
ফিচারমার্কো ফন বাস্তেন: উট্রেখটের রাজহাঁস
ফিচারহাসান মাহমুদের বল যে ভাষায় সফল
ফিচারফুটবল ইতিহাসে সেরা ১০ : লোনে পাঠিয়ে মাথায় হাত
ফিচারআর্জেন্টিনা দলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় এত কম কেন?
ফিচারযেভাবে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের পুনর্গঠন
ফিচার




মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।