খেলারদেশ

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ড্র

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ পড়েছে পিএসজি, ম্যান সিটির মতো শক্তিশালী ক্লাবগুলো।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে বার্সেলোনা। তবে শিরোপার পথে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। লিগ পর্বে বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় দুই প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি ও ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। পিএসজির মাঠে খেলতে হবে তাদের, আর সিটির বিপক্ষে ম্যাচটি হবে নিজেদের মাঠে। লিগ পর্বে মোট আটটি ম্যাচ খেলবে হান্সি ফ্লিকের দল।

ঘরের মাঠে পিএসজি ও সিটির পাশাপাশি বার্সেলোনা আতিথ্য দেবে অ্যাস্টন ভিলা, ফেইনুর্ড ও কোমোকে। কোমোর কোচ আবার বার্সেলোনার সাবেক মিডফিল্ডার সেস ফ্যাব্রেগাস। অন্যদিকে অ্যাওয়ে ম্যাচে বার্সার প্রতিপক্ষ স্পোর্টিং সিপি, গালাতাসারায় এবং আজারবাইজানের সাবাহ এফকে।

বার্সেলোনার জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্য পিএসজি ম্যাচ। টানা দ্বিতীয় মৌসুমে লিগ পর্বে ফরাসি ক্লাবটির মুখোমুখি হবে কাতালানরা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মাঠে এই ম্যাচকে দেখা হচ্ছে ফ্লিকের দলের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে। ইউরোপে বার্সেলোনা ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে, সেটি বোঝার জন্য পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচটি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।

পিএসজির বিপক্ষে জিতলে বার্সেলোনার তরুণ দল আত্মবিশ্বাস পাবে। আর হারলেও সেটি উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ফ্লিকের অধীনে দলের তৃতীয় মৌসুমে ইউরোপীয় পর্যায়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য বার্সার। সেই জায়গায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মাঠে জয় পাওয়া হবে বড় বার্তা।

Image

তবে সব ম্যাচ যে সমান কঠিন হবে, তা নয়। আজারবাইজানে সাবাহ এফকের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচটিই বরং বার্সার জন্য ‘ফাঁদ’ হয়ে উঠতে পারে। বার্সেলোনা থেকে সেখানে যেতে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বিমানযাত্রা করতে হবে। শীতকালীন আবহাওয়া হলে ভ্রমণ ও ম্যাচ—দুটিই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাছাড়া বিশ্বের অন্যতম বড় ক্লাবের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে খেলার সুযোগ সাবাহর খেলোয়াড়দের বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে।

এই ম্যাচে বার্সেলোনার আরেকটি ঝুঁকি হতে পারে মনোযোগের ঘাটতি। পিএসজি বা ম্যানচেস্টার সিটির মতো বড় দলের বিপক্ষে স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও মনোযোগ বেশি থাকে। কিন্তু তুলনামূলক কম পরিচিত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সামান্য অসতর্কতাও বিপদ ডেকে আনতে পারে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য আক্রমণভাগ নিয়ে। রবার্ট লেভানডফস্কি বা ফেরান তোরেসের বিকল্প হিসেবে কোনো বিশেষজ্ঞ সেন্টার-ফরোয়ার্ড না এলে ইউরোপের বড় ম্যাচে দলটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জুলিয়ান আলভারেজকে দলে পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় আপাতত রাফিনিয়া কিংবা অ্যান্থনি গর্ডনকে সামনে খেলানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে বার্সার।

Image

লা লিগায় এই কৌশল কার্যকর হলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এর সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা পরের ধাপের বড় প্রতিপক্ষগুলোর বিপক্ষে সুযোগ কাজে লাগাতে একজন স্বীকৃত গোলস্কোরারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বার্সেলোনার সামনে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে শেষ ষোলো কিংবা কোয়ার্টার ফাইনালের পরের ধাপ। সম্ভাব্য কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে সবার আগে উঠে আসছে লুইস এনরিকের পিএসজির নাম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিএসজি বার্সেলোনাকে বেশ ভুগিয়েছে। তার ওপর এনরিকে নিজেই বার্সেলোনাকে খুব ভালোভাবে চেনেন। পিএসজি এরই মধ্যে দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে।

অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকেও সম্ভাব্য কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত মৌসুমে দুই দলের কোয়ার্টার ফাইনালের দুই লেগই বার্সেলোনার জন্য ছিল কঠিন পরীক্ষা। এর সঙ্গে গ্রীষ্মের দলবদলে আলভারেজকে পাওয়ার জন্য বার্সেলোনার আগ্রহের বিষয়টি নতুন করে উত্তাপ তৈরি করতে পারে।

তবে এসব হিসাবের মাঝেও বার্সেলোনার লক্ষ্য একেবারে পরিষ্কার—চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। গত দুই মৌসুমে একবার সেমিফাইনাল এবং পরেরবার কোয়ার্টার ফাইনালে থেমেছে কাতালান ক্লাবটি। তাই এবার শেষ চারে ওঠাও তাদের কাছে যথেষ্ট সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে না। শিরোপা অথবা অন্তত ফাইনালে ওঠাকেই প্রত্যাশার মানদণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তরুণ দলটির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদও কম নয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে ঘিরে দলের প্রতিশ্রুতি ও মানসিকতা দেখে অন্তত সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আক্রমণভাগের সমস্যার সমাধান না হলে সেই পথ কঠিন হতে পারে।

সব মিলিয়ে বার্সেলোনার লিগ পর্বটি একদিকে পিএসজি ও ম্যানচেস্টার সিটির মতো বড় পরীক্ষায় ভরা, অন্যদিকে সাবাহর মতো তুলনামূলক কম পরিচিত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত বিপদের আশঙ্কাও রয়েছে। ২০১৫ সালের পর প্রথমবার ইউরোপসেরার মুকুট জিততে হলে শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে ফ্লিকের দলকে। এবার সেই স্বপ্ন কত দূর যায়, তার প্রথম বড় উত্তর মিলবে পিএসজির মাঠেই।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

সম্পর্কিত আরও খবর

এই বিভাগের সব খবর →

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।