রায়ান, এন্দ্রিক, ব্রাজিল
প্রতিপক্ষ থেকে সতীর্থ
জীবনটা সত্যিই চক্রাকার। ফুটবল তো আরও বেশি। ফিফা বিশ্বকাপে চার বছরের চক্র যেন এমন অনেক গল্প তৈরির কারখানা। রায়ান ভিটর ও এন্ড্রিকের প্রতিপক্ষ থেকে বিশ্বকাপ মঞ্চে সতীর্থ হয়ে ওঠার গল্পটাও সেরকমই অনবদ্য।

এন্ড্রিক (বাঁয়ে), রায়ান (ডানে)
২০২২ সালের ২৬ জুন, ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ভাস্কো দা গামা অনূর্ধ্ব-১৭ ও পালমেইরাস অনূর্ধ্ব-১৭। একদিকে ছিলেন ভাস্কোর হয়ে রায়ান ভিটর, অন্যদিকে পালমেইরাসের এন্ড্রিক ফেলিপে।

২০২২, রায়ান ভিটর : রাইট উইংগার, সেন্টার ফরোয়ার্ড
সাও জানুয়ারিও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ভাস্কো দা গামা ৪-২ গোলে জিতেছিল। রায়ান একটি গোল করেছিলেন, আর এন্ড্রিক করেছিলেন জোড়া গোল। তবে দুই লেগ মিলিয়ে পালমেইরাসই শিরোপা জিতেছিল।

২০২২, এন্ড্রিক ফেলিপে : সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার, রাইট উইংগার, এটাকিং মিডফিল্ডার
২০২৬, চার বছর পর দৃশ্যপট পুরো বদলে গেছে। তখনকার দুই কিশোর প্রতিদ্বন্দ্বী আজ একই জার্সিতে, একই স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলছে। যে ছেলেরা একসময় অনূর্ধ্ব-১৭ ফাইনালে একে অপরের বিপক্ষে লড়েছিলেন, তাঁরা এখন ব্রাজিলের হয়ে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে পাশাপাশি দাঁড়িয়েছেন এক দলের যোদ্ধা হয়ে।
এ কারণেই বলা হয়—বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটা সময়েরও গল্প। চার বছরের ব্যবধানে অচেনা কিশোররা হয়ে ওঠে জাতীয় নায়ক, আর পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীরা হয়ে যায় সতীর্থ।

২০২৬ : ১৯ বছর বয়সী রায়ান ও এন্ড্রিক সেলেকাও জার্সিতে বিশ্বকাপে
হয়তো এই মুহূর্তে বিশ্বের কোথাও কোনো অনূর্ধ্ব-১৭ ম্যাচ চলছে। মাঠে এমন একজন ফুটবলার দৌড়াচ্ছে, যার নাম আজ কেউ জানে না। হয়তো সে বেঞ্চে বসে আছে, হয়তো এখনও কোনো বড় ক্লাবের নজরেই আসেনি। কিন্তু চার বছর পর, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে, সেই ছেলেটিই হয়তো কোটি মানুষের আশা হয়ে মাঠে নামবে।
ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর দিক সম্ভবত এটিই—ভবিষ্যতের নায়করা প্রায়ই আমাদের চোখের সামনেই খেলে যায়, আমরা শুধু তখনও তাদের চিনে উঠতে পারি না।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।