বিশ্বকাপ ২০২৬
সুপারস্টারদের ছায়ায় বিশ্বকাপ মাতানো অখ্যাত নায়কেরা
২০২৬ বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পরিচিত সুপারস্টাররাই। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আর্লিং হালান্ড, লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে সমানে সমান লড়ে শীর্ষে আছেন, আর তাদের ঠিক পেছনেই রয়েছেন হ্যারি কেইন। তবে স্রেফ তারকাদের লড়াই নিয়ে সীমাবদ্ধ না এবারের বিশ্বকাপ। বড় নামগুলোর আড়ালে একঝাঁক কম পরিচিত ফুটবলার নিজেদের প্রতিভা দিয়ে নজর কাড়ছেন এবং ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন।

সুপারস্টারদের ছায়ায় লুকিয়ে থাকা অখ্যাত নায়কেরা
বিশ্বকাপ ২০২৬ এর মঞ্চ এবারও ঝলমল করছে হাল্যান্ড, মেসি, এমবাপ্পে ও কেইনের মতো বড় বড় নামে। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তারা সবাই একে অপরের সঙ্গে লড়ছেন। কিন্তু এদের আড়ালেই এই আসরে নিজেদের নাম সৃষ্টি করছেন কিছু অজানা-অচেনা প্রতিভা, যাদের পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করেছে ও করছে।

অ্যালেক্স ফ্রিম্যান (যুক্তরাষ্ট্র)
প্রত্যাশার তুলনায় এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে চমকপ্রদ দলগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। আক্রমণভাগ সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়ালেও, দলের দুর্দান্ত শুরুর পেছনে রক্ষণভাগের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ—আর সেই রক্ষণে বড় ভূমিকা রেখেছেন ২১ বছর বয়সী অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। মরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে তিনি কখনো রাইট-ব্যাক, কখনো ডান দিকের সেন্টার-ব্যাক হিসেবে খেলেছেন এবং বলের দখলে ও বল ছাড়া—দুই পরিস্থিতিতেই দারুণ পারফর্ম করেছেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ জয়ের ম্যাচে তিনি শেষ তৃতীয়াংশে ১২টি সফল পাস দেন এবং তিনটি ড্রিবল করার চেষ্টা করেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ জয়ের ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি ক্লিন শিট ধরে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
জানুয়ারিতে অরল্যান্ডো সিটি ছেড়ে ভিয়ারিয়ালে যোগ দিলেও স্পেনে নিয়মিত একাদশে জায়গা পাননি। তবে ক্লাবে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ইউরোপের বড় কোনো দলে তার যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলেই মনে করা হচ্ছে।

মিকেল ওইয়ারসাবাল (স্পেন)
আন্তর্জাতিক ফুটবলে মিকেল ওইয়ারসাবাল অবশ্য নতুন কোনো নাম নন। দুই বছর আগে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে স্পেনকে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন তিনি। তবে তার পারফরম্যান্সের যোগ্য বৈশ্বিক স্বীকৃতি যেন মিলতে শুরু করেছে এবারের বিশ্বকাপেই। ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় উইঙ্গার হিসেবে খেললেও, রিয়াল সোসিয়েদাদ ও স্পেনের হয়ে সেন্ট্রাল স্ট্রাইকারে রূপান্তরের পর নিজেকে একেবারে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। গত মৌসুমে লা লিগায় ৩৪ ম্যাচে ১৫ গোল করে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল মৌসুম কাটান তিনি। সেই ধারাবাহিকতাই বিশ্বকাপেও বজায় রেখেছেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর দুর্দান্ত ছন্দে ফিরে টানা তিন ম্যাচে চার গোল করে স্পেনের আক্রমণের প্রধান ভরসায় পরিণত হয়েছেন ওইয়ারসাবাল।

ইয়ান দিওমান্দে (আইভরি কোস্ট)
বিশ্বকাপ শুরুর আগে লিভারপুল ও পিএসজির আগ্রহের খবরে ১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিয়োমান্দের নাম আলোচনায় আসে। তবে বুন্দেসলিগার নিয়মিত দর্শক ছাড়া খুব কম ফুটবলপ্রেমীই তাকে কাছ থেকে দেখেছিলেন। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে এই গতিময় উইঙ্গার নিজেকে বিশ্বের অন্যতম তরুণ প্রতিভাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ২-০ জয়ের ম্যাচে তার নামের পাশে মাত্র একটি অ্যাসিস্ট থাকলেও, পরিসংখ্যান তার প্রভাব পুরোপুরি তুলে ধরে না। একের পর এক ওয়ান-অন-ওয়ান (1v1) পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষ ফুল-ব্যাকদের নাস্তানাবুদ করে তিনি বারবার আক্রমণে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। এ মৌসুমেই বড় কোনো ক্লাবে তার দলবদল না হলেও, ফিট থাকলে আরবি লিপজিগে তাকে খুব বেশি দিন ধরে রাখা কঠিন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

জন আরিয়াস (কলম্বিয়া)
উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স সমর্থকদের মনে হতে পারে, গত গ্রীষ্মে ফ্লুমিনেন্সে থেকে তারা যেন জন আরিয়াসের বদলে তার যমজ ভাইকেই দলে এনেছিল। কারণ, ক্লাব ফুটবলে হতাশ করলেও বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এই বহুমুখী মিডফিল্ডার-ফরোয়ার্ড। শেষ ৩২-এর ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে কলম্বিয়ার ১-০ ব্যবধানের জয়ে একমাত্র গোলটিও এসেছে তার পা থেকেই।
২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় দারুণ পারফরম্যান্সের পর গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপেও নজর কাড়েন আরিয়াস। সেই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে উলভারহ্যাম্পটন প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো প্রাথমিক ট্রান্সফার ফি দিয়ে তাকে দলে ভেড়ায়। তবে প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং দল অবনমনের শঙ্কায় পড়ায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাকে ব্রাজিলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
পালমেইরাসে ফিরে আবারও নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন আরিয়াস, আর সেই আত্মবিশ্বাসই বিশ্বকাপেও ধরে রেখেছেন। কলম্বিয়া যদি এবার ইতিহাস গড়ে অনেক দূর যেতে চায়, তবে আরিয়াসের সৃজনশীলতা, পরিশ্রম এবং আক্রমণভাগে তার শক্তির ওপরই অনেকটা নির্ভর করতে হবে।

জোহান মানজাম্বি (সুইজারল্যান্ড)
ফ্রেইবার্গের ইউরোপা লিগের ফাইনালে ওঠার পথে জোহান মানজাম্বি ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারফর্মার। তবে এক বিশ্বকাপে অসাধারণ খেলেই ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলার নিজের পরিচিতি আরও অনেক গুণ বাড়িয়ে তুলেছেন। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ৪-১ জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করেন তিনি। এর মধ্যে ৭৪তম মিনিটে করা দুর্দান্ত ভলি গোলটি ম্যাচের ডেডলক ভাঙে। সেই পারফরম্যান্সের পর থেকেই কোচ মুরাত ইয়াকিনের শুরুর একাদশে নিয়মিত জায়গা করে নিয়েছেন তিনি এবং স্ট্রাইকারের পেছনে মাঠের সবখানে প্রভাব রেখে দারুণ ছন্দে আছেন। মিডফিল্ড, উইং এবং স্ট্রাইকার—তিন পজিশনেই খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে মানজাম্বির। তার বহুমুখিতা, টেকনিক্যাল দক্ষতা ও শারীরিক সামর্থ্য তাকে ভবিষ্যতে বিশ্ব ফুটবলের বড় তারকাদের একজন হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থী করে তুলেছে।

ক্রিস্ট ইনাও উলাই (আইভরি কোস্ট)
মাত্র ২০ বছর বয়সে তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনস্পরে খেলা ক্রিস্ট ইনাও উলাই আইভরি কোস্টের বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়ার আগে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না। তবে টুর্নামেন্ট শেষে তিনি এমন একজন ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যার দিকে ভবিষ্যতে বিশেষ নজর থাকবে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ১-০ জয়ের সময় বদলি হিসেবে মাঠে নামেন উলাই। এরপর জার্মানির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে ২-১ ব্যবধানে হারলেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিনি মিডফিল্ডে দারুণ আধিপত্য দেখান, ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচটি সফল ড্রিবলের যৌথ রেকর্ড গড়েন এবং জার্মানির হাই প্রেস বারবার থামিয়ে দিয়ে জার্মানদের আত্মবিশ্বাসী ফুটবলের কৌশল ভেঙে দেন।

সিডনি লোপেস ক্যাব্রাল (কেপ ভার্দ)
স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া প্রথমে আলোচনায় এলেও, শেষ ৩২-এ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দে আরেক নায়ক খুঁজে পায়—সিডনি লোপেস ক্যাব্রাল। মাত্র এক বছর আগেও ২৩ বছর বয়সী কাবরাল জার্মানির তৃতীয় বিভাগের ক্লাব ভিক্টোরিয়া কোলনের হয়ে ক্যাব্রাল। এরপর তিনি পর্তুগালের সফলতম ক্লাব বেনফিকায় যোগ দেন এবং চলতি গ্রীষ্মে ত্রাবজোনস্পরে পাড়ি জমান, যেখানে আইভরি কোস্টের উদীয়মান তারকা ক্রিস্ট ইনাও উলাইয়ের সঙ্গে খেলবেন। তুরস্কে বা অন্য কোথাও ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য পেলেও, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে করা সমতাসূচক গোলটি হয়তো তার ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত হয়েই থাকবে। অসম্ভব এক কোণ থেকে দৌড়ে এসে উইংয়ে আলেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টারকে কাটিয়ে তিনি দারুণ বাঁকানো শটে বল জড়ান এমিলিয়ানো মার্তিনেসের গোলের দূরের ওপরের কোণে। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও, ক্যাব্রাল ও কেপ ভার্দে তাদের লড়াকু পারফরম্যান্স দিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। অনেকের মতে, ক্যাব্রালের সেই গোলটি টুর্নামেন্টের সেরা গোলের পুরস্কারেরও সবচেয়ে বড় দাবিদার।

ইয়াসিন আয়ারি (সুইডেন)
ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের হয়ে দারুণ একটি মৌসুম কাটালেও, ক্লাবটির ট্যাকটিক্যাল কাঠামোর জন্য প্রায়ই বোঝা কঠিন হয় কোনো সাফল্য ঐ খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত প্রতিভার ফল, নাকি ক্লাবের ফুটবল দর্শনের প্রভাব। তবে ২২ বছর বয়সী ইয়াসিন আয়ারি এবারের বিশ্বকাপে প্রমাণ করেছেন, তিনি ক্লাবের গণ্ডির বাইরেও সমান উজ্জ্বল। গ্রাহাম পটারের অধীনে সুইডেনের মিডফিল্ডে দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ৫-১ ব্যবধানে জয়ের পথে মাঠের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন আয়ারি। মিডফিল্ড থেকে দুর্দান্ত শক্তি ও গতিময় ফুটবল উপহার দেওয়ার পাশাপাশি করেন জোড়া গোল। যদিও ফ্রান্সের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে সুইডেনের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে যায়, তবু আয়ারির পারফরম্যান্স জানিয়ে দিয়েছে, আগামী মৌসুমে তার উন্নতি ও অগ্রযাত্রা নিবিড়ভাবে অনুসরণ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

রায়ান (ব্রাজিল)
আরেক প্রিমিয়ার লিগের তরুণ ফুটবলার, রায়ান, এবারের বিশ্বকাপে নজর কেড়েছেন ব্রাজিলের ডান উইংয়ে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে। বোর্নমাউথের হয়ে খেলা ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার গত এপ্রিলেই ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক করেন। তবে তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে হাইতির বিপক্ষে ৩-০ জয়ের ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরবর্তী তিন ম্যাচেও নিজের স্থান ধরে রাখেন রায়ান। প্রথম বিশ্বকাপেই তার পারফরম্যান্স ইঙ্গিত দিচ্ছে, ব্রাজিল এবং ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে তার সামনে দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ার অপেক্ষা করছে। যদিও ভবিষ্যতে একই পজিশনের জন্য তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে চেলসির ১৯ বছর বয়সী প্রতিভাবান ফুটবলার এস্তেভাওর সঙ্গে, যিনি হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এবারের বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি।

ইমাম আশুর (মিশর)
বিশ্বকাপ শুরুর আগে মিশরকে ঘিরে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল দুই তারকা ফরোয়ার্ড—মোহাম্মদ সালাহ ও ওমর মারমুশ। প্রশ্ন ছিল, তারা কি শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারবেন? কিন্তু টুর্নামেন্টে দেখা গেল, ডান প্রান্ত থেকে খেলা ইমাম আশুর মিশরের আক্রমণে সমান, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রভাব ফেলেছেন। মিশরের ক্লাব আল আহলির হয়ে খেলা ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-১ ড্র হওয়া ম্যাচে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত জোরালো শটে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে দলের বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করেন। এরপর শেষ ৩২-এ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে জয়ী হওয়া ম্যাচেও প্রথম গোল করে মিশরের জয়ের ভিত গড়ে দেন।

এলাইজা জাস্ট (নিউজিল্যান্ড)
এবারের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারফরমার ছিলেন এলাইজা জাস্ট। ইরানের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ২-২ ড্রয়ে তিনি জোড়া গোল করেন, আর দুটি গোলই আসে আক্রমণে ক্রিস উডের দুর্দান্ত হোল্ড-আপ খেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি তুলনামূলকভাবে নিস্তেজ থাকলেও, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানে হারের ম্যাচেও একটি গোল করে সম্মান নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেন। ২৬ বছর বয়সী জাস্টের সামনে এখনও দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে আছে। বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স বাজারমূল্য ও পরিচিতি দুটোই বাড়িয়েছে। এর সঙ্গে মাদারওয়েলের হয়ে তার সফল প্রথম মৌসুম মিলিয়ে ভবিষ্যতে বড় কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।

হুলিয়ান কিনিওনেস (মেক্সিকো)
দেরিতে হলেও নিজের সেরা ফর্মে আসা ফুটবলারদের অন্যতম—হুলিয়ান কিনিওনেস। বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল কাদসিয়াহর হয়ে খেলেন তিনি। এক মাস আগেও অনেক ফুটবলপ্রেমীর কাছে তিনি এমন পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু বিশ্বকাপে মেক্সিকোর হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে জাতীয় নায়কে পরিণত করেছে। কলম্বিয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা কিনিওনেস পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই খেলেছেন মেক্সিকোতে। ২০২৩ সালে কলম্বিয়া অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে খেলার সুবাদে জাতীয় দলে ডাক পেলেও তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। একই বছরের শেষ দিকে নাগরিকত্ব লাভের পর মেক্সিকোর প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর থেকেই ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের ক্যারিয়ার নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। গত মৌসুমে সৌদি প্রো লিগে ৩৩ গোল করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও আইভান টোনিকে পেছনে ফেলে গোল্ডেন বুট জেতেন। সেই গোল করার ধার বিশ্বকাপেও ধরে রেখে পাঁচ ম্যাচে চার গোল করেছেন তিনি। তবে শেষ ১৬-তে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার করা গোলটি শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোর পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

রনক জামান
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।