ব্রাজিলিয়ান ঘরোয়া ফুটবলের ব্যাপক রদবদল

ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে দেশটির ফুটবল কনফেডারেশন-সিবিএফ। বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমানো, তরুণ ফুটবলারদের জন্য বেশি সুযোগ তৈরি এবং ম্যাচের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সিরি ‘এ’ ও সিরি ‘বি’র ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর এসব প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
বর্তমানে ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলে একটি ম্যাচের স্কোয়াডে সর্বোচ্চ ৯ জন বিদেশি খেলোয়াড় রাখা যায়। ২০২৭ সাল থেকে এই সংখ্যা কমে হবে ৮। এরপর ২০২৮ সালে ৭, ২০২৯ সালে ৬ এবং ২০৩০ সালে সর্বোচ্চ ৫ জন বিদেশি খেলোয়াড় ম্যাচের স্কোয়াডে রাখতে পারবে ক্লাবগুলো। ২০২২ সালের পর আবারও পাঁচজনের সীমায় ফিরবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল। তরুণ ফুটবলারদের জন্যও বাড়ানো হচ্ছে সুযোগ। একটি ক্লাব সর্বোচ্চ ৫০ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে। ২০২৭ সালে এর মধ্যে অন্তত ২০টি জায়গা থাকবে অনূর্ধ্ব-২৩ খেলোয়াড়দের জন্য। ২০২৮ সালে এই সংখ্যা ২১, ২০২৯ সালে ২৩ এবং ২০৩০ সালে ২৫-এ উন্নীত হবে। অর্থাৎ ২০৩০ সালে ৫০ সদস্যের স্কোয়াডে ২৫ জনই থাকবেন অনূর্ধ্ব-২৩ বয়সী।
ম্যাচের সময়সূচিতেও বড় পরিবর্তন আসছে। ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘এ’-তে রোববারকে ম্যাচের প্রধান দিন হিসেবে রাখা হবে এবং বিকেল ৪টাকে করা হবে অন্যতম নির্ধারিত সময়। সপ্তাহের মাঝামাঝি বুধবারে থাকবে ছয় ম্যাচের বিশেষ সূচি। একই সঙ্গে রোববার রাতের ম্যাচ এবং সপ্তাহের মাঝামাঝি রাত ৭টার ম্যাচের সময় বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের বেশি খেলার সুযোগ দেওয়ার এই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিও। তাঁর মতে, ব্রাজিলের তরুণ ফুটবলারদের বড় সমস্যা হলো নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়া।

ব্রাজিলের বিখ্যাত মারাকানা স্ট্যাডিয়ামে ফ্ল্যামেঙ্গো বনাম ব্রাগ্রান্তিনোর ম্যাচ শেষে।
আনচেলত্তির ভাষায়, ব্রাজিলের তরুণ খেলোয়াড়দের সমস্যা হলো তারা খেলে না, তাই পরিণতও হতে পারে না। তারা এখানে খেলে না, বিদেশেও খেলে না। তরুণদের ইউরোপে যাওয়ার পরও নিয়মিত একাদশে জায়গা না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি উদাহরণ হিসেবে এন্দ্রিক ও এস্তেভাওয়ের কথা বলেন। আনচেলত্তির মতে, ১৮ বা ১৯ বছর বয়সে তারা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবে চলে যায়, কিন্তু সেখানে গিয়ে পর্যাপ্ত খেলার সময় পায় না।
এ মুহূর্তেও এন্দ্রিক ও এস্তেভাওয়ের মতো তরুণ ব্রাজিলিয়ানদের ক্লাব ফুটবলে সীমিত সময় পাওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইউরোপে ব্রাজিলের কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড় মৌসুমের শুরুতে খুব কম মিনিটই মাঠে ছিলেন।
সিবিএফ-এর নতুন নিয়মের লক্ষ্যও তাই তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য ঘরোয়া ফুটবলে জায়গা বাড়ানো। তবে ব্রাজিলের ফুটবলে তরুণদের উন্নয়নের সমস্যার কারণ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, বিদেশি খেলোয়াড় কমানোর পাশাপাশি ক্লাবগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, অবকাঠামো এবং তরুণ খেলোয়াড়দের ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে পরিবর্তনের এই পরিকল্পনা ধাপে ধাপে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।
সম্পর্কিত আরও খবর
ক্লাব ফুটবলসিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে প্রিমিয়ার লিগ, কী শাস্তি সামনে?
ক্লাব ফুটবলশেষ মুহূর্তের গোলে কলম্বাসের কাছে মায়ামির হার
ক্লাব ফুটবল‘আমাদের যা অর্জন, তা কেউ নিতে পারবে না’
ক্লাব ফুটবল১১৫ অভিযোগের ১১৪টিতেই দোষী ম্যানচেস্টার সিটি!
ক্লাব ফুটবলসৌদি আরবে খেলার কারণ জানালেন তিয়ানি
ক্লাব ফুটবল

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।