এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের অবসান: বিদায় স্যার গ্যারি সোবার্স
কিংবদন্তী ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই। অনেকের মতেই তিনি সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার। স্বীকৃত ক্রিকেটে প্রথম ছয় বলে ছয় ছক্কা হাঁকানো স্যার সোবার্স বল করতে পারতেন দুই হাতেই! খেলার দেশের পক্ষ থেকে শোক ও শ্রদ্ধা...

সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই
এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের অবসান হলো, বিদায় নিলেন স্যার গ্যারি সোবার্স। ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার এবং অসীম প্রতিভাবান ক্রিকেটার স্যার গারফিল্ড (গ্যারি) সোবার্স আর নেই। ৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষ প্রশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খবরটি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিদায়বেলায় কিংবদন্তিকে স্মরণ করে তারা লিখেছে, ‘একটি মহাকাব্যিক ইনিংসের অবসান হলো। আমাদের হৃদয়ে আপনি আছেন এবং চিরকাল থাকবেন, স্যার গারফিল্ড সোবার্স।’ বার্বাডোজে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি শুধু ক্রিকেটেই নয়, তাঁর জন্মভূমির হয়ে ফুটবল, বাস্কেটবল ও গলফেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মাঠে তাঁর সহজাত ও সাবলীল বিচরণ তাঁকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা অ্যাথলেটের মর্যাদা দিয়েছে।
সোবার্সের ক্রিকেটীয় প্রতিভা ছিল অবিশ্বাস্য স্তরের। সমালোচকদের মতে, তিনি যদি ক্যারিয়ারে একটি উইকেটও না পেতেন, তবুও বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবেই স্মরণীয় থাকতেন। আবার কোনো রান না করলেও, কেবল বাঁহাতি অর্থোডক্স ও রিস্ট স্পিনের বৈচিত্র্যময় বোলিং দিয়ে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে জায়গা করে নিতেন। উইকেটকিপিং ছাড়া ক্রিকেট মাঠের বাকি সব বিভাগেই ছিল তাঁর রাজকীয় আধিপত্য।

স্যার গ্যারি সোবার্সের রেকর্ড ভেঙেই ব্রায়ান লারা সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংস খেলেন
১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট খেলেন সোবার্স। টেস্টে তাঁর পরিসংখ্যান এককথায় চোখ ধাঁধানো। ব্যাটিং পরিসংখ্যান ছিলো ৫৭.৭৮ গড়ে ৮,০৩২ রান (২৬টি সেঞ্চুরি ও ৩০টি ফিফটি)। বোলিং পরিসংখ্যান ছিলো ৩৪.০৩ গড়ে ২৩ সমূহ উইকেট। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। এর এক বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে। শুরুতে মূলত বোলার হিসেবে খেললেও ২১ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই বিশ্ব রেকর্ডে রূপান্তর করেন। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে কিংবদন্তি লেন হাটনের রেকর্ড ভেঙে খেলেন অপরাজিত ৩৬৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ১৯৯৪ সালে ব্রায়ান লারা এই রেকর্ড ভাঙার সময় সোবার্স নিজেই মাঠে উপস্থিত থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বার্বাডোজ, নটিংহামশায়ার ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩৮৩ ম্যাচে ৫৪.৮৭ গড়ে ২৮,৩১৪ রান করেছেন এবং ২৭.৭৪ গড়ে নিয়েছেন ১,০৪৩টি উইকেট। ১৯৬৮ সালে নটিংহামশায়ারের হয়ে গ্ল্যামারগনের বোলার ম্যালকম ন্যাশের এক ওভারে ৬টি ছক্কা মেরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম এই কীর্তি গড়েন তিনি। ওয়ানডে ক্রিকেট যখন শুরু হয়, তখন সোবার্সের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের দিকে। ফলে ক্যারিয়ারে মাত্র ১টি ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭৫ সালে তাঁকে নাইটহুড (স্যার) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আইসিসির বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কারটিও তাঁর নামানুসারে ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি’ রাখা হয়েছে। এছাড়া ১৯৬৪ সালে উইজডেনের বর্ষসেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন এবং ২০০০ সালে উইজডেনের শতাব্দীর সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের তালিকায় স্থান পান তিনি। ২০০৯ সালে আইসিসি যখন 'হল অব ফেম' চালু করে, তখন শুরুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এই মহানায়ককে। তাঁর প্রয়াণে বিশ্ব ক্রিকেটে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।