কোকাবুরায় মান পরিবর্তন হবে তো!
ক্রিকেটাররা এনসিএলকে গুরুত্ব সহকারে না নেওয়ায় আগেও কোকাবুরা বল ব্যবহার করার পরও উন্নত হয়নি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড ছাড়া লাল বলের ক্রিকেটে ডিউক বল ব্যবহারের হার অনেকটাই কম। ঘরের মাঠে টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ ব্যবহার করে কোকাবুরা বল। তবুও জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) সবশেষ দুই আসরে ছিল ডিউকের ব্যবহার! এবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে ফের কোকাবুরা বলে ফিরেছে বিসিবি। এনসিএলে ব্যবহৃত হচ্ছে কোকাবুরা।
এবার কোকাবুরায় ফেরার কারণ কী? আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি বিষয়টি খোলাসা করেনি। তবে একাধিক কোচ ও ক্রিকেটাররা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের মানোন্নয়নের সিদ্ধান্তের কারণে কোকাবুরা ফেরার সিদ্ধান্ত। বলের পরিবর্তনে কিভাবে খেলার মানের উন্নতি হবে সেটা অবশ্য সাধারণ পাঠকদের জন্য বোঝা কঠিন। সেটাই একটু ব্যাখ্যা করে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এই প্রতিবেদনে।
ডিউক বলে থাকা সিম হাতে সেলাই করা হয়। বলে থাকে ব্যবহৃত চামড়ায় থাকে গ্রিজ। সিম হাতে সেলাই করায় সহজাতভাবে ভালো সুইং পান বোলাররা। যেহেতু সহজে উজ্জ্বলতা ফেরানো সম্ভব হয় সে কারণে ৭০ থেকে ৮০ ওভার পর্যন্ত বোলাররা সুইং আদায় করে নিতে পারেন।
বোলারদের জন্য এই বাড়তি সুবিধা থাকায় ব্যাটারদের জন্য রান করা কঠিন হয়ে ওঠে। বড় ইনিংস খেলতে অনেক সতর্ক থাকতে হয় তাদের। কোনো কারণে অসতর্ক হয়ে পড়লে আউট হয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপারমাত্র।
অন্যদিকে কোকাবুরা বলে কোনো ধরনের গ্রিজ ব্যবহার করা হয় না। বলের সিম সেলাই করা হয় মেশিনের মাধ্যমে। বল উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে দ্রুত। বলা হয়, কোকাবুরা বলে সুইং পাওয়া যায় ম্যাচের ২০ ওভার পর্যন্ত। এরপরই তৈরি হয় ব্যাটারদের দাপট।
কিন্তু এখানে একটু ভিন্নতা আছে, বোলাররা যদি উইকেটের ঠিকঠাক জায়গায় বল করতে পারেন, তাহলে রিভার্স সুইং কিংবা বল থেকে মুভমেন্ট ঠিকই আদায় করে নিতে পারেন।
বলা হয়, কোকাবুরা বলে ব্যাটারদের জন্য রান করা সহজ। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা পুরোপুরি ভিন্ন। নতুন বলে প্রথম ২০ ওভার খুবই দেখেশুনে খেলতে হয়। পরের সময়ে সুইং কমে এলেও বোলাররা মুভমেন্ট কিংবা রিভার্স সুইং আদায় করতে পারেন। এই বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে বোলারদের দক্ষতার উপর। সঙ্গে উইকেটের ভূমিকা তো আছেই।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলা বেশিরভাগ ক্রিকেটারই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে তবেই জায়গা পান। এসব দিক বিবেচনায় ব্যাটারদের সতর্ক থাকতে হয় কোকাবুরা বলে রান করতে। দুই পক্ষের জন্যই থাকে সমান সুযোগ।
পেসার-ব্যাটারদের পাশাপাশি কোকাবুরা বলে দারুণ কিছু করার সুযোগ থাকে স্পিনারদের জন্যও। বাড়তি টার্ন আর বাউন্সও আদায় করে নিতে পারেন তারা। স্পিনারদের জন্য এই সুযোগটা অনেকটাই কম থাকে ডিউক বলে।
এসব পার্থক্যের পর বলা যায়, ডিউক থেকে কোকাবুরায় খেলা চালানোর সিদ্ধান্ত কিছুটা ইতিবাচক। খেলোয়াড়দের রান করতে কিংবা উইকেট পেতে দিতে হবে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ।
তবে, এখানে কিছুটা যদি-কিন্তু আছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিশেষ করে এনসিএলকে ক্রিকেটাররা খুব একটা গুরুত্ব সহকারে নেয় না, এমন অভিযোগ প্রতিনিয়তই শোনা যায়। সে কারণেই আগের আসরগুলোতে কোকাবুরা বল ব্যবহার করা হলেও বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ভিত্তি গড়ে ওঠেনি।
ম্যাচ ফি বাড়ানো, টেস্ট ক্রিকেটের মতো অন্যান্য সুবিধা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেওয়ার পর ক্রিকেটাররা যদি এনসিএলকে গুরুত্ব সহকারে না নেয়, বল যতই পরিবর্তন হোক, খেলার মানে কোনো পরিবর্তন হবে না। তখন বিসিবির সকল চেষ্টাই বৃথা যাবে।

ক্রিকেট প্রতিবেদক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।
সম্পর্কিত আরও খবর
বাংলাদেশের ক্রিকেটআকবরের দৃঢ়তায় ম্যাচ বাঁচাল রংপুর
বাংলাদেশের ক্রিকেটইনিংস ব্যবধানের হারে শুরু বরিশালের মৌসুম
বাংলাদেশের ক্রিকেটএশিয়ান গেমস সমাপণীতে লিটনের হাতে ছিল পতাকা
বাংলাদেশের ক্রিকেটএনসিএলে রাজশাহীর বিপক্ষে জয়ের সেঞ্চুরিতে এগিয়ে চট্টগ্রাম
বাংলাদেশের ক্রিকেটখুলনার বোলিং তোপে ফলো-অনে বরিশাল
বাংলাদেশের ক্রিকেট
মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।