অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্ট
‘অস্ট্রেলিয়া আরও কঠিন রূপে ফিরবে’
ম্যাকাই টেস্টের আগে অস্টেলিয়াকে নিয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক করলেন সিমন্স

‘অস্ট্রেলিয়া আরও কঠিন রূপে ফিরবে’
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দ যেন পরের ম্যাচে আত্মতুষ্টির কারণ না হয়, বাংলাদেশ দলকে সেই সতর্কবার্তাই দিয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। সিরিজের দ্বিতীয় ও নির্ধারণী টেস্টে অস্ট্রেলিয়া আরও আগ্রাসী হয়ে ফিরবে বলে মনে করছেন তিনি।
দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটা ছিল বাংলাদেশের অন্যতম সেরা জয়। এখন সামনে সিরিজ জয়ের হাতছানি। ২২ আগস্ট ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে শিষ্যদের সতর্ক করে সিমন্স বলেন, ‘আমি তাদের একটাই কথা বলেছি এবং যেখানেই সুযোগ পাব, সেটাই বলব—অস্ট্রেলিয়া আরও কঠিন রূপে ফিরে আসবে। তাই আমাদের হয় একই মানের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে হবে, নয়তো আরও একটু ভালো করতে হবে।’
বাংলাদেশের কোচ মনে করেন, ছোট ছোট জায়গায়ও উন্নতি করতে পারলে সেটাই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়া নিজেদের খেলার ধরনেও পরিবর্তন আনবে, আরও শক্তভাবে বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করবে বলে মনে করেন তিনি। তবে প্রথম টেস্টের জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিমন্স। তার মতে, সেই আত্মবিশ্বাসকে এবার কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে বড় রান করার ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ। পাঁচ দিনের টেস্টে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার পরিকল্পনাই তার।
সিমন্স বলেন, টেস্ট ম্যাচ পাঁচ দিনের। বাংলাদেশ যদি সেই সময়ের মধ্যে প্রায় ১১ ঘণ্টা ব্যাট করতে পারে, তাহলে প্রতিপক্ষকে অবশ্যই চাপে পড়তে হবে। তার মতে, বড় প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ গড়ে তুলতে পারলে প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনের জয়কে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট জয় হিসেবেও উল্লেখ করেছেন সিমন্স। বিভিন্ন ফরম্যাটে বড় জয় পেলেও এই জয়কে তিনি সবার ওপরে রাখছেন।

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে অবশ্য বড় ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল তারা এবং দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল। কিন্তু সেই ব্যর্থতার পরও অনুশীলনের ধরন কিংবা খেলোয়াড়দের পরিশ্রমে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছেন সিমন্স। তার মতে, ওই ম্যাচের পরও দলের কাজের মান একই ছিল। খেলোয়াড়েরা নিজেদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখেনি। সেটিই তাকে বিশ্বাস দিয়েছিল যে ভালো ফল একসময় আসবেই।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্য দলটির প্রতি সম্মানও বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন সিমন্স। পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জয়ের পর থেকেই সেই সম্মান বাড়তে শুরু করেছে বলে মনে করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয় সেই জায়গাটিকে আরও শক্ত করেছে। এদিকে মুশফিকুর রহিমের পারফরম্যান্স ও মানসিক অবস্থাতেও খুশি বাংলাদেশ কোচ। ৭ হাজার টেস্ট রান থেকে আর অল্প দূরে থাকা অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে এখন চাপমুক্ত ও আনন্দের সঙ্গে খেলতে দেখছেন তিনি। সিমন্সের মতে, ১০০টির বেশি টেস্ট খেলে ফেলা মুশফিকের এখন আর কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই। মাঠে তার খেলা উপভোগ করার বিষয়টাই কোচকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর দেশে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে, এ কথাও স্বীকার করেছেন সিমন্স। তবে খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যে প্রথম টেস্টের আবেগ কাটিয়ে পরের ম্যাচের দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের সামনে এখন ইতিহাস গড়ার সুযোগ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জিততে হলে আরও একবার নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। আর সিমন্সের সতর্কবার্তা পরিষ্কার: ডারউইনের জয় অতীত; অস্ট্রেলিয়া এবার আরও কঠিন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত।

ক্রিকেট প্রতিবেদক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।
সম্পর্কিত আরও খবর
বাংলাদেশের ক্রিকেটটেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি!
বাংলাদেশের ক্রিকেটম্যাকাইয়ে বোলারদের আধিপত্যের দিন
বাংলাদেশের ক্রিকেটঅনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে সাদমান
বাংলাদেশের ক্রিকেটআবারও দ্রুততম ফাইফারের রেকর্ডবুকে স্টার্ক
বাংলাদেশের ক্রিকেটআবেগ সামলে মাঠে নামতে বলছেন শান্ত
বাংলাদেশের ক্রিকেট


মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।